- ০৪ অক্টোবর, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
সংসদ সদস্য হিসেবে নিজ এলাকার উন্নয়নে প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ করার সুযোগ পাননি বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেত্রী ও সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ডা. মাহমুদা আলম মিতু। তাঁর দাবি, রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে সরকারের কাছ থেকে পর্যাপ্ত বরাদ্দ না পাওয়ায় তাঁর এলাকার মানুষও উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
রোববার (৪ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন মাহমুদা মিতু। তিনি জানান, সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্যদের সাংবিধানিক মর্যাদা একই হলেও বাস্তবে তাঁদের এলাকার উন্নয়নকাজের সুযোগ সীমিত—এ বিষয়টি নিয়ে নির্বাচনের আগেই তাঁর মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছিল।
মাহমুদা মিতু বলেন, সংসদ সদস্যদের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব আইন প্রণয়ন ও রাষ্ট্র পরিচালনায় অংশ নেওয়া। পাশাপাশি সরকারি উন্নয়ন বরাদ্দের মাধ্যমে নিজ এলাকার মানুষের জন্য সরাসরি কাজ করার সুযোগও থাকে। মানুষের কাছে গিয়ে তাঁদের কথা শোনা এবং প্রয়োজনের সময়ে পাশে থাকাকেই তিনি রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে দেখেন।
তাঁর অভিযোগ, বিরোধী দলের সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য হওয়ায় তাঁর এলাকার জন্য প্রত্যাশিত মাত্রায় উন্নয়ন বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। সরকারের পক্ষ থেকে অল্প পরিমাণে কাবিখা ও কাবিটা বরাদ্দ পাওয়া গেছে, যা দুই উপজেলায় ভাগ করে দিতে হয়েছে।
তবে বরাদ্দ কম হলেও এর ব্যবহারে কোনো ধরনের অনিয়ম হবে না বলে আশ্বস্ত করেছেন তিনি। মাহমুদা মিতু বলেন, এলাকার সবচেয়ে জরাজীর্ণ রাস্তাগুলো তিনি সরেজমিনে দেখেছেন। ভবিষ্যতে আরও বরাদ্দ পাওয়া গেলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ধাপে ধাপে এসব রাস্তার উন্নয়নে কাজ করা হবে।
বরাদ্দ বণ্টনের ক্ষেত্রে দলীয় পরিচয়কে প্রাধান্য না দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন এনসিপির এই নেত্রী। তাঁর বক্তব্য, কোনো বিএনপি কর্মী বা সমর্থকও যদি কোনো উন্নয়ন বরাদ্দের প্রকৃত দাবিদার হন, তাহলে দলীয় পরিচয়ের কারণে তাঁকে বঞ্চিত করা হবে না।
মাহমুদা মিতু বলেন, রাজনীতির অন্যতম উদ্দেশ্য হওয়া উচিত মানুষের অধিকার নিশ্চিত করা। বরাদ্দ বা সুযোগ বণ্টনের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের ভিত্তিতে কাউকে বেশি দেওয়া কিংবা কারও প্রাপ্য আটকে রাখার সংস্কৃতির বিরুদ্ধে তিনি। একই সঙ্গে নিজের সিদ্ধান্তে ভুল থাকতে পারে স্বীকার করে সেগুলো সংশোধনের মানসিকতা থাকার কথাও জানান তিনি।
নিজের রাজনৈতিক পথচলা প্রসঙ্গে মাহমুদা মিতু বলেন, চিকিৎসা পেশা ছেড়ে জুলাইয়ের আন্দোলনের পর তিনি রাজনীতিতে এসেছেন মানুষের জন্য কাজ করার প্রত্যয় নিয়ে। তাঁর দাবি, নিজে অন্যায় না করা এবং অন্যায় দেখলে তার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়াই তাঁর রাজনৈতিক অঙ্গীকার।
নিজ এলাকার অবকাঠামোগত পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, তাঁর এলাকা দেশের তুলনামূলকভাবে অনুন্নত অঞ্চলগুলোর একটি। বিশেষ করে রাস্তাঘাটের দুরবস্থার কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের নিয়মিত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
এনসিপির এই সংসদ সদস্য মনে করেন, এলাকার উন্নয়নে দলীয় বিভাজনের বাইরে গিয়ে জনপ্রতিনিধিদের সমন্বিতভাবে কাজ করা প্রয়োজন। রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার ঊর্ধ্বে উঠে বৃহত্তর জনস্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়া গেলে স্থানীয় উন্নয়ন আরও কার্যকরভাবে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব বলে মন্তব্য করেন তিনি।