Tuesday, May 26, 2026

ঈদে ৮০ লাখ চামড়া সংগ্রহের প্রস্তুতি ট্যানারিমালিকদের, ঋণ সহায়তা নিয়ে অসন্তোষ


ছবিঃ কোরবানির পশুর চামড়া সংরক্ষণে ব্যস্ত ট্যানারির কর্মীরা (সংগৃহীত)

স্টাফ রিপোর্ট: PNN 

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে দেশের ট্যানারিমালিকেরা এবার ৭৫ থেকে ৮০ লাখ কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহের প্রস্তুতি নিয়েছেন। এর বড় একটি অংশ রাজধানী ঢাকা থেকে সরাসরি কেনার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের। তবে প্রয়োজনের তুলনায় ব্যাংকঋণ কম পাওয়ায় ব্যবসায়ীরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

চামড়া খাতসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঢাকায় কোরবানির পশুর চামড়ার প্রায় ৮০ শতাংশ সরাসরি সংগ্রহ করতে চান ট্যানারিমালিকেরা। গত বছরও তারা রাজধানী থেকে প্রায় সাড়ে ৭ লাখ থেকে ৮ লাখ চামড়া সরাসরি কিনেছিলেন।

এদিকে চামড়া কেনার জন্য রাষ্ট্রায়ত্ত তিনটি ব্যাংক মোট ১৬০ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করেছে। পাশাপাশি কয়েকটি বেসরকারি ব্যাংকও সীমিত আকারে ঋণ সহায়তা দিয়েছে। তবে আগের ঋণ খেলাপি হয়ে যাওয়ায় অনেক ব্যবসায়ী নতুন ঋণ পাননি বলে জানা গেছে।

বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন–এর চেয়ারম্যান মো. শাহীন আহমেদ বলেন, উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতার কারণে এবার কোরবানির পশুর সংখ্যা কিছুটা কমতে পারে। তাই হিসাব করেই সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, চামড়ার গুণগত মান ভালো থাকলে সরকার নির্ধারিত দাম দেওয়া হবে। তবে লবণ, শ্রমিক ও পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় কাঁচা চামড়ার দাম কিছুটা কমে যেতে পারে।

ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, চামড়া খাতের ঋণের একটি বড় অংশ চলতি মূলধন হিসেবে বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর বাইরে কোরবানির মৌসুমে বিশেষভাবে চামড়া কেনার জন্য অতিরিক্ত অর্থায়ন করা হয়।

সোনালী ব্যাংক শুধুমাত্র একটি প্রতিষ্ঠানকে চামড়া কেনার জন্য ঋণ দিয়েছে। ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শওকত আলী খান জানান, আবেদনকারীদের মধ্যে কেবল একটি ট্যানারি ঋণের উপযোগী ছিল।

অন্যদিকে অগ্রণী ব্যাংক দুই প্রতিষ্ঠানকে ৭৫ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে। এর মধ্যে এপেক্স ট্যানারি পেয়েছে ৪৫ কোটি টাকা এবং বে ট্যানারি পেয়েছে ৩০ কোটি টাকা।

জনতা ব্যাংক মোট ৬০ কোটি টাকার ঋণ অনুমোদন করলেও তার একটি অংশ এখনো বিতরণ হয়নি। অন্যদিকে রূপালী ব্যাংক–এ আবেদন করা কয়েকজন ব্যবসায়ী আগের ঋণের সীমা অতিক্রম করায় নতুন অর্থায়ন পাননি।

ট্যানারিমালিকদের অভিযোগ, সাভারের হেমায়েতপুরে চামড়াশিল্প নগর স্থানান্তরের পরও পরিবেশদূষণ ও রপ্তানি সংকট পুরোপুরি কাটেনি। এতে ব্যবসা কমে যাওয়ায় অনেক প্রতিষ্ঠান ঋণ খেলাপিতে পরিণত হয়েছে এবং নতুন ঋণ পেতে সমস্যায় পড়ছে।

ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, পর্যাপ্ত ব্যাংক সহায়তা ও সুষ্ঠু বাজার ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে এবারের ঈদে চামড়া খাত ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন