Monday, July 6, 2026

দুই বম নাগরিকের আটকের প্রতিবাদে ঢাকায় পিসিপির বিক্ষোভ, নিঃশর্ত মুক্তির দাবি


ছবিঃ বম জনগোষ্ঠীর দুই ব্যক্তিকে আটকের প্রতিবাদে পিসিপির বিক্ষোভ সমাবেশ (সংগৃহীত)

PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা 

বান্দরবানের থানচি উপজেলায় বম জনগোষ্ঠীর দুই ব্যক্তিকে আটকের ঘটনার প্রতিবাদে রাজধানীতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ (পিসিপি)। সংগঠনটি আটক দুজনের নিঃশর্ত মুক্তির পাশাপাশি পার্বত্য অঞ্চলে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে অভিযানের ধরন পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছে।

রোববার (৫ জুলাই) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে পিসিপির ঢাকা মহানগর শাখার উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে বিভিন্ন ছাত্র, যুব ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরাও সংহতি প্রকাশ করেন।

সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, ২০২২ সাল থেকে বান্দরবানে কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট (কেএনএফ) দমনের নামে পরিচালিত অভিযানে বম জনগোষ্ঠীর বহু নারী, পুরুষ, শিশু ও প্রবীণকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের দাবি, সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আটক অনেকেই দীর্ঘ সময় ধরে বিচার ছাড়াই কারাগারে রয়েছেন, যা মানবাধিকার ও ন্যায়বিচারের পরিপন্থী। একই সঙ্গে কারাগারে থাকা অবস্থায় বম জনগোষ্ঠীর তিন সদস্যের মৃত্যুর অভিযোগও তুলে ধরেন তাঁরা।

পিসিপির নেতাদের দাবি, বর্তমানে বম জনগোষ্ঠীর প্রায় ৮০ জন বিভিন্ন কারাগারে আটক রয়েছেন। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২ জুলাই থানচি উপজেলার থাংদোয়াই পাড়া থেকে ৬৫ বছর বয়সী চমখুপ বম এবং সেরকর পাড়া থেকে ৫৫ বছর বয়সী জৌথোয়াং বমকে কেএনএফের সদস্য সন্দেহে নিজ নিজ বাড়ি থেকে আটক করা হয়।

সমাবেশে বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, জৌথোয়াং বমকে অস্ত্র ও গুলিসহ আটকের অভিযোগে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হলেও চমখুপ বমের অবস্থান সম্পর্কে এখনো পরিবারের সদস্যরা কোনো তথ্য পাননি। বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তাঁর অবস্থান প্রকাশেরও দাবি জানানো হয়।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন পিসিপির ঢাকা মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক বাহাদুর ত্রিপুরা। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন দপ্তর সম্পাদক অংসালা মারমা। বক্তব্য দেন পিসিপির কেন্দ্রীয় সভাপতি সমর চাকমা, গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের সভাপতি জিকো ত্রিপুরা এবং হিল উইমেন্স ফেডারেশনের সদস্য রূপসী চাকমা।

এ ছাড়া সংহতি জানিয়ে বক্তব্য দেন বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী, গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিল, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট এবং বিপ্লবী ছাত্র-যুব আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা। তাঁরা পার্বত্য অঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি মানবাধিকার ও আইনের শাসন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তবে সমাবেশে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন