- ১৯ মে, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
মার্কিন ডলারের দরপতন এবং আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমে যাওয়ার প্রভাবে বিশ্ববাজারে আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে স্বর্ণের দাম। একই সঙ্গে বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতি নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ কিছুটা কমেছে। তবে সরকারি বন্ডের উচ্চ মুনাফা বা ইল্ডের কারণে স্বর্ণের মূল্যবৃদ্ধির গতি এখনও সীমিত রয়েছে।
আন্তর্জাতিক বাজার বিশ্লেষকদের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার দিনের শুরুতে স্বর্ণের দাম গত মার্চের শেষ দিকের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে যায়। পরে বাজারে ঘুরে দাঁড়িয়ে স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম প্রায় শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৫৬৭ ডলারের বেশি হয়। একই সময়ে জুন মাসের ডেলিভারির জন্য মার্কিন স্বর্ণ ফিউচারের দামও কিছুটা বেড়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বের প্রধান মুদ্রাগুলোর বিপরীতে মার্কিন ডলারের মান কমে যাওয়ায় অন্যান্য দেশের বিনিয়োগকারীদের কাছে স্বর্ণ তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী হয়ে উঠেছে। ফলে বাজারে স্বর্ণের চাহিদা কিছুটা বেড়েছে।
বাজার বিশ্লেষক জিম উইকফ বলেন, মার্কিন ডলার সূচক কমে যাওয়ায় স্বর্ণের বাজার ইতিবাচক সাড়া পেয়েছে। একই সঙ্গে অপরিশোধিত তেলের দাম কমে যাওয়াও বাজারকে কিছুটা স্বস্তি দিয়েছে।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের তেলের ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিল হতে পারে—এমন সম্ভাবনার খবরে তেলের বাজারে দরপতন দেখা গেছে। এতে মার্কিন ডব্লিউটিআই ও ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ২ ডলার কমেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত এবং জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা বিশ্ববাজারে মুদ্রাস্ফীতির চাপ বাড়িয়ে তুলেছিল। ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সুদের হার আরও বাড়াতে পারে—এমন আশঙ্কা তৈরি হয়। তবে তেলের দাম কমায় সেই চাপ কিছুটা হালকা হয়েছে।
অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার সময়ে স্বর্ণকে সাধারণত নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। পাশাপাশি এটি মুদ্রাস্ফীতির বিপরীতে সুরক্ষামূলক সম্পদ হিসেবেও পরিচিত। তবে সুদের হার বেশি থাকলে সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের আকর্ষণ কমে যায় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এদিকে বৈশ্বিক বন্ডবাজারেও চাপ অব্যাহত রয়েছে। মার্কিন ১০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের ইল্ড বেড়ে সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এর প্রভাব স্বর্ণবাজারেও পড়ছে বলে জানিয়েছেন বিশ্লেষকেরা।
বিশ্ববাজারে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কিছুটা কমে যাওয়ায় বড় কয়েকটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান স্বর্ণের ভবিষ্যৎ মূল্য পূর্বাভাসও কমিয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম বিনিয়োগ ব্যাংক জেপি মরগ্যান ২০২৬ সালের গড় স্বর্ণমূল্যের পূর্বাভাস আগের তুলনায় কমিয়ে দিয়েছে।
স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও মিশ্র প্রবণতা দেখা গেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে রুপার দাম বেড়েছে, প্লাটিনামেও সামান্য ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। তবে প্যালাডিয়ামের দাম কিছুটা কমেছে।