- ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
চলতি ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই বাংলাদেশে রেমিট্যান্স প্রবাহে নতুন উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। মাসের প্রথম আট দিনেই বাংলাদেশ ১ বিলিয়ন বা ১০০ কোটি মার্কিন ডলার প্রবাসী আয় পেয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই ধারা অব্যাহত থাকলে মাস শেষে রেমিট্যান্স ৫ বিলিয়ন ডলারের ঘর ছাড়াতে পারে, যা নতুন অর্থবছরের শুরুতেই অর্থনীতিতে শক্তিশালী গতি সঞ্চার করবে।
রেমিট্যান্স বাড়ায় ব্যাংকিং চ্যানেলে ডলারের সরবরাহও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে। বাজারে এই অতিরিক্ত সরবরাহ নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং মুদ্রাবাজার স্থিতিশীল রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংক ১৩টি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ২০ কোটি ২০ লাখ ডলার কিনেছে। মাল্টিপল প্রাইস অকশন (এমপিএ) পদ্ধতিতে ডলার কেনার সময় প্রতি ডলারের দাম নির্ধারণ করা হয় ১২২ টাকা ২৭ পয়সা থেকে ১২২ টাকা ২৯ পয়সার মধ্যে। এ নিয়ে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথমার্ধে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মোট ডলার ক্রয় দাঁড়িয়েছে ২.৫ বিলিয়ন ডলার।
মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক এবং মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, ১ থেকে ৮ ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে এসেছে ১০০ কোটি ডলার রেমিট্যান্স। শুধু ৮ ডিসেম্বরেই এসেছে ১৩ কোটি ১০ লাখ ডলার। গত বছরের একই সময়ে রেমিট্যান্স ছিল ৮৩ কোটি ১০ লাখ ডলার অর্থাৎ এবার প্রবাসী আয়ে বৃদ্ধি ২১ শতাংশ।
চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্স এসেছে ১ হাজার ৪০৪ কোটি ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৭ শতাংশ বেশি। কর্মকর্তারা বলছেন, হুন্ডি প্রতিরোধে সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কঠোর পদক্ষেপ, প্রণোদনা সুবিধা এবং ব্যাংকিং চ্যানেলের উন্নতি এই বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
এর আগে, সদ্য সমাপ্ত নভেম্বর মাসে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ডলার, যা স্থানীয় মুদ্রায় প্রায় ৩৫ হাজার ২৫২ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ১২২ টাকা ধরে)।
অর্থনীতিবিদদের মতে, চলমান রেমিট্যান্স প্রবাহ বজায় থাকলে বছরের প্রথম প্রান্তিকেই রিজার্ভ আরও শক্তিশালী হবে এবং মুদ্রাবাজারে স্বস্তি ফিরতে পারে।