- ১৫ জুন, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN
নরওয়ের রাজপরিবারের সঙ্গে সম্পর্কিত বহুল আলোচিত এক মামলায় ক্রাউন প্রিন্স হাকনের সৎসন্তান মারিউস বর্গ হইবিকে ধর্ষণ ও গার্হস্থ্য সহিংসতার অভিযোগে চার বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সোমবার অসলো জেলা আদালত এ রায় ঘোষণা করে।
দীর্ঘ সাত সপ্তাহ ধরে চলা বিচার কার্যক্রম শেষে আদালত দুইটি ধর্ষণের অভিযোগ এবং একাধিক সহিংস আচরণের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে মন্তব্য করে। এর মধ্যে একটি ঘটনা ক্রাউন প্রিন্সের বাসভবনের বেজমেন্টে ঘটেছিল বলে আদালতের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে। তবে তার বিরুদ্ধে আনা আরও দুটি ধর্ষণের অভিযোগে তাকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
আদালত জানায়, ভুক্তভোগীদের একজন ঘটনার সময় আত্মরক্ষার মতো অবস্থায় ছিলেন না এবং সেই সুযোগেই অপরাধ সংঘটিত হয়। বিচারক রায়ে বলেন, উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযোগের সত্যতা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
মামলার শুনানিতে হইবির মাদকাসক্তি, ব্যক্তিগত ভিডিও এবং সাবেক এক সঙ্গীর সঙ্গে বিনিময় করা বিভিন্ন বার্তাও আদালতে উপস্থাপন করা হয়। প্রসিকিউশন পক্ষ দাবি করে, অভিযোগকারী নারীরা ঘটনাগুলোর সময় এতটাই অচেতন বা অসহায় অবস্থায় ছিলেন যে প্রতিরোধ করার সক্ষমতা ছিল না।
হইবি গুরুতর অভিযোগগুলো অস্বীকার করলেও কিছু অপরাধের দায় স্বীকার করেন। এর মধ্যে ছিল গাঁজা পরিবহন, নিষেধাজ্ঞা অমান্য এবং কয়েকটি ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনা।
এদিকে আদালত তাকে সাবেক এক প্রেমিকার ওপর শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগেও দোষী সাব্যস্ত করেছে। বিচার চলাকালে উঠে আসে, ২০২২ সালের মাঝামাঝি থেকে ২০২৩ সালের শেষভাগ পর্যন্ত তিনি ওই নারীর ওপর একাধিকবার হামলা, শ্বাসরোধের চেষ্টা এবং বিভিন্ন ধরনের সহিংস আচরণ করেছিলেন।
রায় ঘোষণার সময় হইবি কারাগার থেকে ভিডিও সংযোগের মাধ্যমে শুনানিতে অংশ নেন। তার আইনজীবী এবং প্রসিকিউশন—উভয় পক্ষই রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে।
রাজপরিবারের সদস্য না হলেও এবং সিংহাসনের উত্তরাধিকার তালিকায় না থাকলেও মারিউস বর্গ হইবি দীর্ঘদিন ধরেই নরওয়ের গণমাধ্যমের আলোচনায় ছিলেন। তার মা মেত্তে-মারিত ২০০১ সালে ক্রাউন প্রিন্স হাকনকে বিয়ে করার পর থেকেই তিনি রাজপরিবারের ঘনিষ্ঠ পরিমণ্ডলের অংশ হিসেবে পরিচিতি পান।
বিশ্লেষকদের মতে, এই মামলাটি নরওয়ের রাজতন্ত্রের ভাবমূর্তিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। সাম্প্রতিক জরিপগুলোতে রাজতন্ত্রের প্রতি জনসমর্থন কিছুটা কমে যাওয়ার ইঙ্গিতও পাওয়া গেছে। তবে এরপরও দেশটির সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ রাজতন্ত্র ব্যবস্থার প্রতি সমর্থন বজায় রেখেছেন।
রায়ের পর রাজপ্রাসাদ থেকে সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় বলা হয়েছে, বিষয়টি আদালতের বিচারাধীন ছিল এবং আদালত সিদ্ধান্ত দিয়েছে। তাই এ বিষয়ে তাদের আর কোনো মন্তব্য নেই।