- ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনে (আইবিএ) দীর্ঘদিন ধরে চলা নানা ধরনের আর্থিক অনিয়মের চিত্র উঠে এসেছে শিক্ষা অডিট অধিদপ্তরের নিরীক্ষা প্রতিবেদনে। ২০২৩–২০২৪ অর্থবছরের অডিটে দেখা গেছে, রুটিন একাডেমিক কাজকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেখিয়ে সম্মানী প্রদান, ভবন ও লিফট সংস্কারের নামে অনিয়ম, আয় বাজেটে না দেখানোসহ একাধিক কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৩ কোটি ৫৭ লাখ ৭৭ হাজার ৩০২ টাকা।
সম্প্রতি সম্পন্ন হওয়া অডিট প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোনো অনুমোদিত নীতিমালা ছাড়াই আইবিএর বিবিএ ও এমবিএ প্রোগ্রামের নিয়মিত পরীক্ষাসংশ্লিষ্ট কাজ—যেমন প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, পরীক্ষায় দায়িত্ব পালন ও উত্তরপত্র মূল্যায়নের জন্য প্রায় ২২ লাখ ৮০ হাজার টাকা সম্মানী দেওয়া হয়েছে। অথচ এসব কাজ শিক্ষকতার নিয়মিত দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত। জেনারেল ফিন্যান্সিয়াল রুলস অনুযায়ী সরকারি অর্থ ব্যবহারে যে আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার কথা, তা এখানে অনুসরণ করা হয়নি।
এছাড়া নিয়মিত শিক্ষকদের ‘ওভারলোড কোর্স’ দেখিয়ে প্রতি কোর্সে এক লাখ ১১ হাজার টাকার বেশি সম্মানী প্রদান করা হয়। এ খাতে ব্যয় হয়েছে ৩৪ লাখ টাকার বেশি। তবে কোন নীতিমালার ভিত্তিতে এই কোর্সগুলোকে ওভারলোড হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে, তার কোনো নথি নিরীক্ষায় পাওয়া যায়নি।
ভৌত অবকাঠামো সংস্কারেও অনিয়মের তথ্য মিলেছে। আইবিএ ভবনে নতুন লিফট স্থাপনের ক্ষেত্রে একই ঠিকাদারকে একাধিক ধাপে কাজ দিয়ে প্রায় ১৮ লাখ টাকার ব্যয় দেখানো হলেও সব বিল-ভাউচার নিরীক্ষায় উপস্থাপন করা হয়নি। একইভাবে ছাদ মেরামতের কাজেও ধাপে ধাপে অর্থ ব্যয়ের তথ্য থাকলেও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও প্রকৌশল অনুমোদনের নথি পাওয়া যায়নি। অডিট প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব ক্ষেত্রে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতি অনুসরণ করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও তা মানা হয়নি।
সবচেয়ে গুরুতর অনিয়ম হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে আইবিএর ব্যাংকে সঞ্চিত অর্থ বাজেটে অন্তর্ভুক্ত না করার বিষয়টি। নিরীক্ষায় দেখা যায়, বিভিন্ন ব্যাংকে রাখা এফডিআর ও অন্যান্য হিসাবে মোট ২৬ কোটি টাকার বেশি অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্ষিক বাজেটে আয় হিসেবে দেখানো হয়নি, যা বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের নির্দেশনার পরিপন্থী।
এ ছাড়া নিয়োগ পরীক্ষা ও প্রকল্পসহ বিভিন্ন কার্যক্রম থেকে প্রাপ্ত আয়ের ওপর নির্ধারিত ওভারহেড চার্জ কেন্দ্রীয় তহবিলে জমা না দেওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৫ কোটি ৬২ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। ক্রয় সংক্রান্ত ক্ষেত্রেও নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করে কোটেশন পদ্ধতিতে অতিরিক্ত ব্যয়ের তথ্য উঠে এসেছে।
নিরীক্ষায় আরও দেখা যায়, ল্যাপটপ ও আসবাবপত্র কেনার পর সেগুলোর কোনো স্টক বা সম্পদ নিবন্ধন সংরক্ষণ করা হয়নি। ফলে এসব সামগ্রীর ব্যবহার ও অবস্থান সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আইবিএর পরিচালক অধ্যাপক শাকিল হুদা জানান, সংশ্লিষ্ট সময়কালে তিনি দায়িত্বে ছিলেন না। তবে অডিট আপত্তির জবাব দেওয়া হয়েছে এবং বিষয়টি নিষ্পত্তির দায়িত্ব অডিট অধিদপ্তরের।
শিক্ষা অডিট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. কামরুল আলম বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিট সংক্রান্ত কাজ এখনও চলমান থাকায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে মন্তব্য করা সমীচীন নয়।
অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানান, এ বিষয়ে গণমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ার দায়িত্ব প্রো-ভিসি (প্রশাসন)-এর। তবে প্রো-ভিসির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অডিট প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও বিভাগীয় প্রধানদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে।