Monday, January 19, 2026

অনুমতি ছাড়া যৌন কনটেন্ট তৈরির অভিযোগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান এক্স এআইকে আইনি নোটিশ


প্রতীকী ছবিঃ গ্রক (সংগৃহীত)

স্টাফ রিপোর্ট: PNN 

অনুমতি ছাড়া নারীদের ও অপ্রাপ্তবয়স্কদের যৌন ছবি ও ভিডিও তৈরির অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রতিষ্ঠান এক্সএআইয়ের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে শুক্রবার প্রতিষ্ঠানটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ বন্ধের নির্দেশনা সংবলিত আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল রব বন্টা এক বিবৃতিতে বলেন, এক্সএআইয়ের প্রযুক্তি ব্যবহার করে সম্মতি ছাড়া অন্তরঙ্গ ছবি ও শিশুদের যৌন নির্যাতন সংক্রান্ত উপাদান তৈরি করা হচ্ছে—যা সম্পূর্ণভাবে বেআইনি। তিনি জানান, এই ধরনের কার্যক্রম বন্ধে প্রতিষ্ঠানটিকে অবিলম্বে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। শিশু নির্যাতনের বিষয়ে ক্যালিফোর্নিয়া প্রশাসনের অবস্থান শূন্য সহনশীলতার।

অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, এক্সএআইয়ের চ্যাটভিত্তিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবস্থার মাধ্যমে ব্যাপক হারে অনুমতিবিহীন নগ্ন ছবি তৈরি হচ্ছে, যা অনলাইনে নারী ও কিশোরীদের হয়রানির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটিকে পাঁচ দিনের মধ্যে জানাতে বলা হয়েছে, কীভাবে তারা এই ধরনের অনৈতিক ও অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ করবে।

এই বিতর্কের মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে এক্সএআইয়ের চ্যাটব্যবস্থার একটি বিশেষ মোড, যার মাধ্যমে স্পষ্ট ও অশালীন কনটেন্ট তৈরি করা সম্ভব। এই সুবিধার অপব্যবহারেই সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিষয়টি শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই সীমাবদ্ধ নেই। জাপান, কানাডা ও যুক্তরাজ্যেও একই অভিযোগে তদন্ত শুরু হয়েছে। পাশাপাশি মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া সাময়িকভাবে এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সেবা বন্ধ করে দিয়েছে।

যদিও এক্সএআই সম্প্রতি তাদের ছবি সম্পাদনার সুবিধায় কিছু নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে, তবুও ক্যালিফোর্নিয়ার প্রশাসন আইনি পদক্ষেপে অটল রয়েছে। এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এর নিরাপত্তা বিভাগ জানিয়েছিল, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে কেউ যদি অবৈধ কনটেন্ট তৈরি করে, তাহলে সেটিকে সরাসরি আইন লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

এ বিষয়ে এক্সএআইয়ের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে স্বয়ংক্রিয় বার্তা পাঠানো হয়, যেখানে গণমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। অন্যদিকে ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তর জানিয়েছে, তারা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সহজলভ্য ও বিনামূল্যের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির বিস্তারের ফলে সম্মতি ছাড়া যৌন কনটেন্ট তৈরির প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। এই সমস্যা এখন কেবল একটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং পুরো প্রযুক্তি খাতের জন্যই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের আইনপ্রণেতারাও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা এক্স, রেডিট, স্ন্যাপচ্যাট, টিকটক, অ্যালফাবেট ও মেটাসহ বিভিন্ন বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের কাছে চিঠি পাঠিয়ে জানতে চেয়েছেন—যৌন ডিপফেক ও এ ধরনের অবৈধ কনটেন্টের বিস্তার রোধে কী ধরনের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন