- ১০ জানুয়ারি, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
দীর্ঘ প্রায় সাড়ে সাত বছর পর আবারও যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভুট্টার একটি বড় চালান দেশে পৌঁছেছে। বুধবার সকালে চট্টগ্রাম বন্দরের সদরঘাট এলাকায় কনফিডেন্স সিমেন্ট জেটিতে জাহাজ থেকে ভুট্টা খালাসের কার্যক্রম শুরু হয়।
বন্দর ও আমদানিকারক সূত্র জানায়, চালানটিতে রয়েছে প্রায় ৫৭ হাজার ৮৫৫ টন ভুট্টা। এই ভুট্টা আমদানিতে মোট ব্যয় হয়েছে প্রায় ১ কোটি ৪২ লাখ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৭৫ কোটি টাকার সমান। পশুখাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান নাহার অ্যাগ্রো গ্রুপ, প্যারাগন গ্রুপ এবং নারিশ পোলট্রি অ্যান্ড হ্যাচারি লিমিটেড যৌথভাবে চালানটি আমদানি করেছে।
এর আগে ২০১৮ সালের জুলাই মাসে সর্বশেষ যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভুট্টা আমদানি হয়েছিল। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে মূলত দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলো থেকেই ভুট্টা আসছিল বাংলাদেশে।
এই আমদানি উপলক্ষে কনফিডেন্স সিমেন্ট ঘাটে একটি সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের কৃষিবিষয়ক প্রতিনিধি এরিন কোভার্ট উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক মৌসুমে উৎপাদিত এই ভুট্টা আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে সরবরাহ করা হয়েছে এবং এর গুণগত মান নিয়ে আমদানিকারকদের আশ্বস্ত করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের তথ্যমতে, চালানটি ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের ভ্যাংকুভার বন্দর থেকে পাঠানো হয়েছে। দেশটির শীর্ষ শস্য রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড গ্রেইন করপোরেশন ভুট্টাগুলো সরবরাহ করেছে। এসব ভুট্টা বাংলাদেশের পশুখাদ্য শিল্পে প্রাণিসম্পদের পুষ্টি চাহিদা মেটাতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
কাস্টমস সূত্র জানায়, যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা এই ভুট্টার চট্টগ্রাম বন্দর পর্যন্ত খরচ পড়েছে টনপ্রতি প্রায় ২৪৬ ডলার। একই সময়ে ব্রাজিল থেকে আসা ভুট্টার তুলনায় এটি কিছুটা কম দামে পাওয়া গেছে।
‘এমভি বেলটোকিও’ নামের একটি জাহাজে করে ভুট্টার চালানটি আনা হয়। জাহাজটি প্রথমে বন্দরের বহির্নোঙরে অবস্থান করে, পরে ছোট জাহাজের মাধ্যমে ধাপে ধাপে ভুট্টা কনফিডেন্স সিমেন্ট জেটিতে আনা হয়। সেখান থেকে ক্রেনের সাহায্যে ট্রাকে বোঝাই করে আমদানিকারকদের নিজস্ব গুদামে পাঠানো হচ্ছে।