Friday, August 21, 2026

দাগনভূঞায় স্ত্রী হত্যা মামলায় স্বামীর মৃত্যুদণ্ড


প্রতিকি ছবিঃ আদালত (সংগৃহীত)

PNN নিউজ ডেস্ক। ফেনী

ফেনীর দাগনভূঞায় যৌতুকের দাবি ও পরকীয়াকে কেন্দ্র করে স্ত্রী আরজিনা আক্তারকে হত্যার মামলায় স্বামী একরামুল হক ওরফে চুট্টুকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে আরও দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত একরামুল হক দাগনভূঞা উপজেলার জায়লস্কর ইউনিয়নের সৈয়দ আহমদের ছেলে। তবে হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই তিনি পলাতক রয়েছেন।

মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের ১১ জানুয়ারি ফেনী পৌরসভার বারাহীপুর এলাকার আরজিনা আক্তারের সঙ্গে একরামুল হক চুট্টুর বিয়ে হয়। বিয়ের পর একরামুল অন্য এক নারীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই বিরোধ দেখা দিত।

এরই মধ্যে একরামুল স্ত্রীর পরিবারের কাছে তিন লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। দাবিকৃত টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আরজিনার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।

২০১৮ সালের ২৬ আগস্ট রাতে নির্যাতনের একপর্যায়ে আরজিনা মারা যান। পরদিন পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। পরে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

এ ঘটনায় নিহত আরজিনার মামা মীর হোসেন দুলাল বাদী হয়ে একরামুল হক চুট্টুকে প্রধান আসামি করে চারজনের বিরুদ্ধে দাগনভূঞা থানায় হত্যা মামলা করেন।

মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম শেষে রাষ্ট্রপক্ষ আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণে প্রয়োজনীয় সাক্ষ্য ও তথ্য আদালতে উপস্থাপন করে। শুনানি শেষে আদালত একরামুল হককে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি দুই লাখ টাকা জরিমানার আদেশ দেন।

রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট শাহাব উদ্দিন রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এ সাজা দিয়েছেন।

পিপি আরও জানান, আসামি পলাতক থাকায় তাকে গ্রেপ্তারের পর থেকে আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়া শুরু হবে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন