- ২৪ অক্টোবর, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। চট্টগ্রাম
চট্টগ্রামের পটিয়ায় বাবার বাড়ি থেকে তৈরি করে আনা নাশতার পরিমাণ নিয়ে বিরোধের জেরে সিফাতুন নূর সিফাত (২২) নামে এক গৃহবধূকে মারধর করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁর শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে। তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা সিফাত শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
নিহত সিফাতুন নূর চন্দনাইশ পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের নয়াপাড়া এলাকার মো. নূর ও জুহিনুর আক্তারের মেয়ে। পাঁচ মাস আগে পটিয়া উপজেলার কুসুমপুরা ইউনিয়নের পূর্ব কুসুমপুরা এলাকার ইলিয়াস খাঁ বাড়ির বাসিন্দা মো. তারেকের (২৬) সঙ্গে পারিবারিকভাবে তাঁর বিয়ে হয়। তারেক দুবাইপ্রবাসী হওয়ায় বিয়ের কয়েক মাস পরই বিদেশে চলে যান। এরপর থেকে সিফাত শ্বশুরবাড়িতে থাকছিলেন।
নিহতের মা জুহিনুর আক্তারের অভিযোগ, গত ১৪ অক্টোবর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে হাতে তৈরি নাশতা নিয়ে যান তিনি। নাশতার পরিমাণ কম হয়েছে—এমন অভিযোগ তুলে তাঁকে ও তাঁর মেয়েকে গালাগাল করা হয়। পরে নাশতা কম হলে আরও নিয়ে আসবেন বলে জানান তিনি। এ নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে সিফাতের শাশুড়ি রিজিয়া বেগম (৬০) তাঁকে কিল-ঘুষি ও লাথি মারেন বলে অভিযোগ করেন জুহিনুর।
তাঁর দাবি, ওই সময় তাঁকেও মারধর করা হয় এবং মা-মেয়েকে মাটিতে ফেলে দেওয়া হয়। ঘটনার পর সিফাতের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। টানা নয় দিন চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর শুক্রবার রাতে তাঁর মৃত্যু হয়।
সিফাতের বাবার অভিযোগ, মারধরের ঘটনার পর প্রকৃত ঘটনা আড়াল করতে তাঁর মেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন এমন একটি ঘটনা সাজানো হয়েছিল। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অন্য পক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় পটিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন নিহতের মা জুহিনুর আক্তার। অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি তদন্ত করছে পুলিশ।
পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিয়াউল হক বলেন, গৃহবধূকে মারধরের বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাঁর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করে তদন্তের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।