- ২২ অক্টোবর, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
দক্ষিণ আফ্রিকায় চাঁদা দিতে রাজি না হওয়ায় মারুফ হোসেন (৪৫) নামে এক বাংলাদেশি ব্যবসায়ীকে গুলি করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে। বুধবার (২১ অক্টোবর) রাতে কেপটাউনের বুস্টারের জুলুটেম্বা এলাকায় নিজ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে। দীর্ঘদিন ধরে দেশটিতে ব্যবসা করে আসা মারুফের মৃত্যুতে তাঁর পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহত মারুফ হোসেন শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলার সিড্যা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম সিড্যা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি মৃত আব্দুস সোবাহান বেপারির ছেলে। তাঁর এক ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, জীবিকার সন্ধানে প্রায় ১৪ বছর আগে দক্ষিণ আফ্রিকায় পাড়ি জমান তিনি। এরপর আর দেশে ফেরা হয়নি তাঁর। চলতি বছর দেশে ফেরার পরিকল্পনা ছিল মারুফের।
নিহতের ভাতিজা কামরুজ্জামান কাউছার জানান, দক্ষিণ আফ্রিকায় বসবাসরত মারুফের ভাই বিল্লাহ হোসেনের মাধ্যমে তাঁরা মৃত্যুর খবর পান। স্থানীয় সময় রাত ৯টার দিকে এবং বাংলাদেশ সময় রাত ১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে বলে পরিবারকে জানানো হয়েছে।
কামরুজ্জামান কাউছারের ভাষ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন কারণে গত দুই মাস ধরে মারুফের দোকান বন্ধ ছিল। বুধবার রাতে একদল সশস্ত্র ব্যক্তি তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে যায়। সে সময় দোকানের ক্যাশে বসা ছিলেন মারুফ। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়ে পালিয়ে যায় হামলাকারীরা। পরে তাঁকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত মারুফের ছেলে মো. সিফাত হোসেন জানান, তিনি যখন তৃতীয় শ্রেণিতে পড়তেন, তখন তাঁর বাবা জীবিকার সন্ধানে দক্ষিণ আফ্রিকায় যান। দীর্ঘ সময় প্রবাসে কাটলেও বাবার আর দেশে ফেরা হয়নি। বাবার মৃত্যুর খবরে ভেঙে পড়েছেন পরিবারের সদস্যরা।
সিফাত বলেন, দোকানে বসে থাকা অবস্থায় তাঁর বাবার বুকে গুলি করা হয়। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয় বলে তাঁরা জানতে পেরেছেন। বাবার মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেছেন তিনি।
এদিকে দক্ষিণ আফ্রিকায় গুলিতে মাহফুজুর রহমান রাজু (৩১) নামে আরও এক বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। গত শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাতে ঘাউটেং প্রদেশের স্প্রিংসের কাছাকাছি কোয়াতেমার সোমেমো এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত রাজু নোয়াখালী সদর উপজেলার পশ্চিম মাইজদী এলাকার মাইজদী কোর্টের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। বুধবার (২১ অক্টোবর) জোহরের নামাজের পর স্প্রিংসের বেকারটন মসজিদে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। গণমাধ্যমকর্মী মো. সৌরভ জানিয়েছেন, রাজুর মরদেহ দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে।
দক্ষিণ আফ্রিকায় পরপর দুই বাংলাদেশির গুলিতে নিহত হওয়ার ঘটনায় প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নিহতদের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা প্রত্যাশা করছেন স্বজনেরা।