Thursday, October 22, 2026

মানিকগঞ্জে সেলফি বাসের ধাক্কায় অটোরিকশার যাত্রী-চালক নিহত, দুই ঘণ্টা মহাসড়ক অবরোধ


ছবিঃ ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে বাসচাপায় প্রাণ গেল দুই অটোরিকশা যাত্রীর (সংগৃহীত)

PNN নিউজ ডেস্ক। মানিকগঞ্জ

বিশ্ব নিরাপদ সড়ক দিবসের সকালে মানিকগঞ্জের ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে সেলফি পরিবহণের একটি বাসের ধাক্কায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার এক যাত্রী ও চালক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন একই পরিবারের আরও দুজন। দুর্ঘটনার পর ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা বাসটি ভাঙচুর করে মহাসড়ক অবরোধ করলে প্রায় দুই ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মহাসড়কের বরংগাইল বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে হতাহতের বিষয়টি জানা গেছে।

নিহত যাত্রী ইয়াসিন আরাফাত (২২) ঘিওর উপজেলার মৌহালী গ্রামের মো. শাহীন মিয়ার ছেলে। নিহত অটোরিকশাচালক বাবলু মিয়া (২৮) একই গ্রামের মোজাহারের ছেলে। দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন ইয়াসিনের বাবা শাহীন মিয়া ও মা রোজিনা আক্তার (৪০)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকালে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় বরংগাইল হাটের দিকে যাচ্ছিলেন শাহীন মিয়া। অটোরিকশাটি বরংগাইল বাসস্ট্যান্ডের কাছে পৌঁছে যাত্রী নামানোর প্রস্তুতি নেওয়ার সময় পাটুরিয়া থেকে ঢাকাগামী সেলফি পরিবহণের একটি বাস পেছন থেকে সেটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে অটোরিকশাটি দুমড়েমুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই ইয়াসিন আরাফাতের মৃত্যু হয়।

দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন অটোরিকশাচালক বাবলু মিয়া। তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়। আহত শাহীন মিয়া ও রোজিনা আক্তারকে মুন্নু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে শাহীন মিয়ার অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।

বরংগাইল হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হারুন অর রশিদ জানান, দুর্ঘটনার পর বাসটি জব্দ করা হয়েছে। তবে বাসের চালক ও সহকারী পালিয়ে গেছেন। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

দুর্ঘটনায় দুজনের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। একপর্যায়ে তাঁরা দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি ভাঙচুর করে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করেন। এতে মহাসড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। আটকে পড়ে শত শত যানবাহন। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে গিয়ে নারী, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

অবরোধকারীদের অভিযোগ, সেলফি পরিবহণের বাসের কারণে একের পর এক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। পরিবহণটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে এর আগেও স্থানীয় বাসিন্দারা মানববন্ধন করেছেন এবং জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন। কিন্তু তাঁদের অভিযোগ, এসব উদ্যোগের পরও দৃশ্যমান কোনো প্রতিকার মেলেনি।

শিবালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম জানান, সেলফি পরিবহণের বিরুদ্ধে একাধিক দুর্ঘটনায় হতাহতের অভিযোগ রয়েছে। অবরোধের পরিপ্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার ভিডিও কলে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলেন। পরিবহণটির বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলে অবরোধকারীরা কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন।

প্রায় দুই ঘণ্টা পর অবরোধ তুলে নেওয়া হলে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। তবে দুর্ঘটনায় দুটি প্রাণহানির ঘটনায় এলাকায় শোক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন