- ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। চট্টগ্রাম
চট্টগ্রাম বন্দরের বেসরকারি কনটেইনার ডিপো বা অফডকগুলোর কার্যক্রম বন্ধের ঘোষণায় শেষ মুহূর্তে পরিবর্তন এসেছে। ডিপো মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপোস অ্যাসোসিয়েশন (বিকডা) পূর্বঘোষিত কর্মসূচি স্থগিত করে এক মাস কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বুধবার (১০ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় বন্দর ভবনে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস এবং বিকডার প্রতিনিধিদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত জরুরি বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেন বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব ওমর ফারুক।
বিকডা জানায়, আলোচনার ভিত্তিতে ভোর ৬টা থেকে কার্যক্রম বন্ধের যে ঘোষণা ছিল, তা আপাতত এক মাসের জন্য তুলে নেওয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখার বিষয়ে সবাই একমত পোষণ করেছেন।
অফডকের মাশুল বা ট্যারিফ বাড়ানোর দাবিতে ডিপো মালিকরা বৃহস্পতিবার থেকে সব ধরনের হ্যান্ডলিং বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছিলেন। তাদের দাবি ২০১৬ সালের পর থেকে ট্যারিফ আর বাড়ানো হয়নি, অথচ শ্রমিকের মজুরি ও পরিচালন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে পুরোনো চার্জে কার্যক্রম চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
বিকডার মহাসচিব রুহুল আমিন শিকদার জানান, ক্রমবর্ধমান খরচের কারণে ডিপোগুলো কার্যক্রম স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিলেও বন্দর কর্তৃপক্ষ আলোচনার মাধ্যমে এক মাস সময় চেয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা তিন দফা দাবি জানিয়েছি। রিট প্রত্যাহার, ট্যারিফ কমিটির বিলুপ্তি এবং দরের বাস্তবসম্মত বৃদ্ধি চাই। এসব সমাধান না হলে আমরা আবারও কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হব।”
বন্দর সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, অফডকের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেলে রফতানি পণ্য পরিবহন এবং খালি কনটেইনার হ্যান্ডলিং সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যেত। এতে তৈরি পোশাক খাতসহ রফতানিমুখী শিল্পে ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা ছিল।
বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরের ১৯টি বেসরকারি ডিপো রফতানিপণ্যের পুরোপুরি হ্যান্ডলিং, খালি কনটেইনার ব্যবস্থাপনা এবং ৬৫ প্রকার আমদানিপণ্য খালাসের বড় অংশ পরিচালনা করে থাকে। এক মাসের সময়ে আলোচনার মাধ্যমে ট্যারিফ সমস্যা সমাধানের প্রত্যাশা করছেন স্টেকহোল্ডাররা।