- ২৫ এপ্রিল, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। চট্টগ্রাম
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) সাবেক মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী-এর বিরুদ্ধে ওঠা নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে নেমেছে। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে ক্ষমতার অপব্যবহার, নিয়োগে অনিয়ম এবং উন্নয়ন প্রকল্পে আর্থিক অসংগতি।
দুদকের চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়-২ থেকে গত ১৬ এপ্রিল পাঠানো এক চিঠিতে চসিকের কাছে বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে। সহকারী পরিচালক মো. রাজু আহমেদের স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে সাবেক মেয়রের ব্যক্তিগত নথিপত্রের পাশাপাশি তার দায়িত্বকালীন সময়ের বিভিন্ন নিয়োগ সংক্রান্ত কাগজপত্র জমা দিতে বলা হয়েছে।
দুদক বিশেষভাবে জানতে চেয়েছে শ্রমিক, কর আদায়কারী, অফিস সহকারী, কম্পিউটার অপারেটর, সড়ক তদারককারী ও সুপারভাইজারসহ বিভিন্ন পদে নিয়োগের প্রক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এসব নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি, আবেদনপত্র, পরীক্ষার নথি ও চূড়ান্ত নিয়োগপত্রসহ সংশ্লিষ্ট সব রেকর্ড জমা দিতে বলা হয়েছে।
এছাড়া ২০২২ সালের অক্টোবরে অনুমোদিত ২৫টি উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয় প্রাক্কলন, কার্যাদেশ, সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের তথ্য এবং কাজের অগ্রগতির বিস্তারিত বিবরণও চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে চারটি ওয়ার্ডে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য ঠিকাদার নিয়োগের প্রক্রিয়াও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।
বর্তমান মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন জানিয়েছেন, দুদকের চিঠি পাওয়ার পর বিষয়টি আইন কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে এবং সংস্থাটিকে প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহে পূর্ণ সহযোগিতা করা হবে।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের নির্বাচনে মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর দায়িত্ব গ্রহণ করেন রেজাউল করিম চৌধুরী। তবে ২০২৪ সালে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর তিনি পদচ্যুত হন। তার মেয়াদকালে নিয়মিত নিয়োগ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে শতাধিক লোক নিয়োগ দেওয়া এবং ঘনিষ্ঠদের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কাজ বণ্টনের অভিযোগও সামনে এসেছে।