- ০৬ জুন, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত সেমিকন্ডাক্টর বা চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ারে বড় ধরনের দরপতন হয়েছে। শুক্রবারের লেনদেনে খাতটির সম্মিলিত বাজারমূল্য থেকে প্রায় ১ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ডলার উধাও হয়ে যায়, যা প্রযুক্তি খাতে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় ধস হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সংশ্লিষ্ট ব্যবসা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের অতিরিক্ত প্রত্যাশা এবং কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের হতাশাজনক আর্থিক তথ্য প্রকাশের পর এই বিক্রির চাপ তৈরি হয়েছে।
চিপ শিল্পের গুরুত্বপূর্ণ সূচক পিএইচএলএক্স সেমিকন্ডাক্টর ইনডেক্স একদিনেই ১০ শতাংশের বেশি পড়ে যায়। মহামারিকালে ২০২০ সালের পর এটিই সূচকটির সবচেয়ে বড় একদিনের পতন।
বিশ্বের শীর্ষ চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এনভিডিয়ার শেয়ারও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। একই সঙ্গে মাইক্রন টেকনোলজি, এএমডি এবং মারভেল টেকনোলজিসের মতো প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদরেও বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। ফলে এসব কোম্পানির বাজারমূল্য থেকে শত শত বিলিয়ন ডলার হারিয়ে যায়।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এআই প্রযুক্তিকে কেন্দ্র করে চিপ খাতের শেয়ার দ্রুত বেড়েছিল। তবে বাজারে অনেক বিনিয়োগকারী উচ্চমূল্যে শেয়ার কেনায় বর্তমানে মূল্যায়ন নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ফলে সামান্য নেতিবাচক খবরও বড় ধরনের বিক্রির চাপ সৃষ্টি করছে।
এদিকে সুদের হার দীর্ঘ সময় উচ্চ পর্যায়ে থাকতে পারে—এমন আশঙ্কাও বাজারে প্রভাব ফেলেছে। প্রত্যাশার চেয়ে শক্তিশালী কর্মসংস্থান তথ্য প্রকাশের পর বিনিয়োগকারীরা মনে করছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক দ্রুত সুদ কমানোর পথে নাও যেতে পারে। এতে প্রযুক্তি খাতের উচ্চমূল্যায়িত কোম্পানিগুলোর ওপর চাপ বেড়েছে।
চিপ খাতের আরেক বড় প্রতিষ্ঠান ব্রডকমের সাম্প্রতিক আর্থিক প্রতিবেদনও বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক কাস্টম চিপ ব্যবসায় প্রত্যাশিত প্রবৃদ্ধি না পাওয়ার ইঙ্গিত বাজারে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।
তবে অনেক বাজার বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, বর্তমান পতন সাময়িক সংশোধন হতে পারে। তাদের মতে, এআই প্রযুক্তির বিস্তার এখনো অব্যাহত রয়েছে এবং দীর্ঘমেয়াদে সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা শক্তিশালী। তাই সাম্প্রতিক দরপতনকে অনেকে অতিরিক্ত মূল্যায়নের পর স্বাভাবিক বাজার সমন্বয় হিসেবেই দেখছেন।
বিশ্লেষকদের ভাষ্য, স্বল্পমেয়াদে অস্থিরতা থাকলেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ক্লাউড কম্পিউটিং এবং উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর খাতগুলোতে চিপের চাহিদা ভবিষ্যতেও বাড়তে থাকবে, যা দীর্ঘমেয়াদে শিল্পটির জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করে।