- ০৬ অক্টোবর, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। খুলনা
খুলনার রূপসা উপজেলার আইচগাতী ইউনিয়নের দুর্জনীমহল এলাকায় ছেলেকে হত্যার ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার তার বাবাকেও গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। নিহত আক্তার ঢালী (৬০) তার ছেলে জয় ঢালী হত্যাকাণ্ডের মামলার বাদীপক্ষের পরিবারের সদস্য ছিলেন। একই পরিবারের দুই সদস্যকে দেড় মাসের ব্যবধানে হত্যার ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
সোমবার (৫ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে দুর্জনীমহল গ্রামের শহীদের মোড় এলাকায় নিজ বাড়ির সামনে আক্তার ঢালীকে গুলি করা হয়। স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, ওই সময় বাড়ির সামনে অবস্থান করছিলেন তিনি। হঠাৎ একদল সশস্ত্র ব্যক্তি তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
গুলির শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন সেখানে ছুটে যান। তবে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা আক্তার ঢালীকে উদ্ধার করার আগেই তার মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এর আগে গত ১৫ আগস্ট রাতে একই এলাকায় হত্যা করা হয় আক্তার ঢালীর ছেলে জয় ঢালীকে (২৭)। রাত সোয়া ৯টার দিকে দুর্জনীমহল শহীদের মোড়ের একটি চায়ের দোকানের সামনে একদল যুবক তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করে বলে অভিযোগ রয়েছে।
ওই ঘটনায় জয়ের মা নাসিমা বেগম বাদী হয়ে রূপসা থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার পর পুলিশ এজাহারভুক্ত প্রধান আসামিসহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে।
জয় হত্যার প্রায় এক মাস ২০ দিনের মাথায় তার বাবা আক্তার ঢালীও হত্যার শিকার হওয়ায় দুই ঘটনার মধ্যে কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। একই পরিবারের দুই সদস্যকে পরপর হত্যার ঘটনায় এলাকার নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বাসিন্দারা।
আক্তার ঢালী হত্যার খবর পেয়ে রূপসা থানা পুলিশ ও জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে যান। পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
রূপসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার জাহিদ বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পূর্ববিরোধ অথবা জয় ঢালী হত্যা মামলার কোনো বিষয়কে কেন্দ্র করে আক্তার ঢালীকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। তবে হত্যার প্রকৃত কারণ তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।
তিনি জানান, হামলাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল কাজ শুরু করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।