- ০৬ অক্টোবর, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
গাজীপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় বাসের হেলপার সুজন মিয়া নিহত হওয়ার প্রায় আড়াই বছর পর ঘটনার রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় পলাতক কাভার্ড ভ্যানচালক মো. রাশেদকে (২২) গ্রেপ্তার করেছে পিবিআই গাজীপুর জেলা।
গ্রেপ্তারের পর সোমবার (৫ অক্টোবর) রাশেদকে আদালতে হাজির করা হলে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন বলে জানিয়েছে পিবিআই।
পিবিআই সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ২৪ জুন ভোরে অনন্যা ক্লাসিক পরিবহণের একটি বাসে হেলপার হিসেবে কিশোরগঞ্জ থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন ২৫ বছর বয়সী সুজন মিয়া। সকাল ৭টার দিকে বাসটি গাজীপুরের রাজেন্দ্রপুরে হোটেল এক্সের পাশের ইউটার্ন এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি কাভার্ড ভ্যান দ্রুতগতিতে বাসটির সামনের অংশে ধাক্কা দেয়।
দুর্ঘটনার সময় বাসের বাম পাশের দরজার কাছে দাঁড়িয়ে ছিলেন সুজন। সংঘর্ষে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে বাসের যাত্রীরা তাকে উদ্ধার করে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
সংঘর্ষের পর বাস ও কাভার্ড ভ্যান দুটিই ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে সড়কের ওপর উল্টে যায়। এ সময় কাভার্ড ভ্যানের চালক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
ঘটনার পর নিহত সুজন মিয়ার স্ত্রী মোসা. সানজিদা আক্তার মিম বাদী হয়ে ওই দিনই গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সদর থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেন। মামলার তদন্ত শেষে সদর থানা পুলিশ আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয়।
পরে আদালতের নির্দেশে চলতি বছরের ৯ এপ্রিল মামলাটির পুনঃতদন্তের দায়িত্ব পায় পিবিআই গাজীপুর জেলা। তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই (নিরস্ত্র) মো. জুয়েল হোসেনের নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্য কাজে লাগিয়ে দুর্ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কাভার্ড ভ্যানচালক রাশেদের অবস্থান শনাক্ত করে।
এরপর গত ৪ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ঢাকার সাভার থানার কলমা এলাকায় উইন্টার গার্মেন্টসের সামনে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পিবিআই জানায়, পরদিন ৫ অক্টোবর রাশেদকে আদালতে হাজির করা হলে তিনি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পরে তাকে বিধি অনুযায়ী আদালতে সোপর্দ করা হয়। মামলাটির তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে।
পিবিআই গাজীপুর জেলার পুলিশ সুপার মো. রকিবুল আক্তার পিপিএম-সেবা বলেন, সড়কে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি কমাতে ট্রাফিক পুলিশের পাশাপাশি সাধারণ মানুষ এবং যানবাহনের মালিক ও শ্রমিকদেরও সচেতন হতে হবে। সড়কে এ ধরনের মৃত্যু কারও কাম্য নয়। গ্রেপ্তার চালককে আইন অনুযায়ী আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।