Thursday, February 5, 2026

চীনে মিয়ানমার ভিত্তিক ‘মিং পরিবার’ অপরাধচক্রের ১১ সদস্যের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর


ছবিঃ মিয়ানমারে পরিবারভিত্তিক অপরাধ সাম্রাজ্য পরিচালনা এবং পালানোর চেষ্টা করা শ্রমিকদের হত্যার দায়ে ১১ জনকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করছে চীনের একটি আদালত—২০২৫ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর, ঝেজিয়াং, চীন। সূত্র: দ্য পিপলস কোর্টস নিউজ অ্যান্ড কমিউনিকেশন এজেন্সি, চীন। (সংগৃহীত । আল জাজিরা)

আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN 

চীন মিয়ানমারভিত্তিক কুখ্যাত ‘মিং পরিবার’ অপরাধচক্রের ১১ সদস্যের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে। বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে জানানো হয়, এই চক্রটি মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলে মাফিয়া কায়দায় পরিচালিত প্রতারণা কেন্দ্র চালাত এবং পালানোর চেষ্টা করা শ্রমিকদের হত্যা করত।

মিং পরিবার ছিল উত্তর মিয়ানমারের তথাকথিত ‘চার পরিবার’ সিন্ডিকেটের একটি। এসব অপরাধচক্রের বিরুদ্ধে অনলাইন প্রতারণা, দেহব্যবসা ও মাদক উৎপাদনের শত শত কেন্দ্র পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে, তাদের সদস্যরা স্থানীয় সরকার ও মিয়ানমারের ক্ষমতাসীন জান্তার ঘনিষ্ঠ মিলিশিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন বলে অভিযোগ।

রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া জানায়, হত্যাকাণ্ড, অবৈধ আটক ও প্রতারণাসহ একাধিক গুরুতর অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর গত বছরের সেপ্টেম্বরে এই ১১ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। তাদের মধ্যে দুজন রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করলে বিষয়টি চীনের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম পিপলস কোর্টে যায়, তবে আদালত আগের রায় বহাল রাখে।

এই অপরাধচক্রের নেতৃত্বে ছিলেন মিং শুয়েচাং। মিয়ানমার–চীন সীমান্তবর্তী কোকাং অঞ্চলের ‘ক্রাউচিং টাইগার ভিলা’ নামের একটি কুখ্যাত কম্পাউন্ডের সঙ্গে তার পরিবারের দীর্ঘদিনের সংশ্লিষ্টতা ছিল। চীনা রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন সিসিটিভির তথ্য অনুযায়ী, একসময় এই চক্রে প্রায় ১০ হাজার মানুষ কাজ করত, যাদের দিয়ে নানা ধরনের প্রতারণামূলক অপরাধ করানো হতো।

কোকাংয়ের রাজধানী লাউক্কাইং ছিল বহুজাতিক অনলাইন প্রতারণা শিল্পের কেন্দ্র। সেখানে পাচার হওয়া শ্রমিকদের ব্যবহার করে জটিল ডিজিটাল কৌশলে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হতো।

দীর্ঘদিন ধরে পাচার হওয়া শ্রমিকদের স্বজনদের অভিযোগ ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের চাপ বাড়তে থাকায় ২০২৩ সালে এসব কম্পাউন্ডের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করে বেইজিং। ওই বছরের নভেম্বরে মিং পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয় এবং তাদের ধরিয়ে দিতে মোটা অঙ্কের পুরস্কার ঘোষণা করা হয়।

পরে জানা যায়, মিং শুয়েচাং হেফাজতে থাকা অবস্থায় আত্মহত্যা করেন। তার ছেলে মিং গুওপিং—যিনি জান্তা-সমর্থিত কোকাং সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর নেতা ছিলেন—এবং নাতনি মিং ঝেনঝেন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে ছিলেন। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে তারা পরিবারের ঘনিষ্ঠ সদস্যদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পান।

সিনহুয়া জানায়, মিং পরিবার আরেকটি অপরাধচক্রের নেতা উ হংমিংয়ের সঙ্গে যোগসাজশ করে প্রতারণা কেন্দ্রে শ্রমিকদের হত্যা, আহত ও অবৈধভাবে আটকের মাধ্যমে অন্তত ১৪ জন চীনা নাগরিকের মৃত্যুর জন্য দায়ী ছিল। উ হংমিংকেও একই সঙ্গে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় সক্রিয় প্রতারণা চক্রগুলো প্রতিবছর ৪৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ হাতিয়ে নেয় বলে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইউনাইটেড স্টেটস ইনস্টিটিউট অব পিসের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মিয়ানমারের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে দীর্ঘদিনের দুর্নীতি ও আইনহীনতার সুযোগ নিয়ে এবং প্রায় পাঁচ বছরের গৃহযুদ্ধকে পুঁজি করে এসব অপরাধচক্র তাদের কার্যক্রম বিস্তার করেছে।

এ বিষয়ে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেছেন, জুয়া ও প্রতারণা নির্মূলে চীন ভবিষ্যতেও কঠোর অভিযান অব্যাহত রাখবে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন