Monday, March 9, 2026

বুয়েট ক্যাম্পাসে ঢাবি শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ


ছবিঃ মারধরের শিকার পাভেল (সংগৃহীত)

PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা 

রাজধানীতে Bangladesh University of Engineering and Technology (বুয়েট) ক্যাম্পাসে এক শিক্ষার্থীকে আটক করে একাধিক দফায় মারধরের অভিযোগ উঠেছে কয়েকজন ছাত্রনেতাকর্মীর বিরুদ্ধে। পরে আহত অবস্থায় তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ঘটনাটি ঘটেছে রবিবার (৮ মার্চ) দিবাগত রাতে।

মারধরের শিকার শিক্ষার্থীর নাম পাভেল। তিনি University of Dhaka–এর দর্শন বিভাগের ২০২০–২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তার বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রসংগঠন Bangladesh Chhatra League–এর সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ আছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তিনি ওই সংগঠনের পক্ষে সক্রিয় ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, রাতের দিকে বুয়েটের নজরুল হলের ক্যাফেটেরিয়ায় সেহরি খাওয়ার সময় পাভেলকে কয়েকজন শিক্ষার্থী আটক করেন। এরপর সেখানে তাকে মারধর করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, ওই ঘটনায় Jatiyo Chatra Shakti–এর কিছু নেতাকর্মীসহ প্রায় ১৫ থেকে ২০ জন অংশ নেন।

এরপর তাকে বুয়েট ক্যাম্পাসের গেটে নিয়ে আবারও মারধর করা হয়। পরে মোটরসাইকেলে করে ঢাবি ক্যাম্পাসে নিয়ে গিয়ে ভিসি চত্বর ও রাজু ভাস্কর্য এলাকার কাছেও তাকে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সবশেষে তাকে শাহবাগ থানার সামনে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানেও তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয় বলে দাবি করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কিল–ঘুষির পাশাপাশি বাইকের শেকল ও তালা দিয়েও তাকে আঘাত করা হয়। এতে তার হাতের আঙুলে গুরুতর আঘাত লাগে এবং পায়ে আঘাত পাওয়ায় তিনি স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে পারছিলেন না। এছাড়া মুখমণ্ডল ও চোখের আশপাশেও আঘাতের চিহ্ন ছিল বলে জানা গেছে।

এ সময় তার মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ ও মোটরসাইকেলের চাবি নিয়ে নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। পরে শারীরিক অবস্থা খারাপ হয়ে পড়লে তাকে থানার সামনে ফেলে রেখে অভিযুক্তরা সেখান থেকে চলে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

ঘটনাটি কাভার করতে গিয়ে এক সাংবাদিকও হেনস্তার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

পরে পুলিশ এসে পাভেলকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠায়। বর্তমানে চিকিৎসা শেষে তাকে আবার থানায় নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে Shahbagh Police Station–এর এক কর্মকর্তা জানান, কিছু শিক্ষার্থী ওই ব্যক্তিকে ধরে থানায় নিয়ে আসে। পরে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়। তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা করা হবে কি না, সে বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

অন্যদিকে University of Dhaka–এর প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দিন আহমেদ বলেন, ঘটনার বিষয়ে তিনি অবগত আছেন। তবে এ বিষয়ে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেবে পুলিশ।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন