- ০৬ জুন, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
দেশের রপ্তানি খাতে প্রত্যাশিত গতি ফিরে আসছে না। চলতি অর্থবছরের অধিকাংশ মাসেই রপ্তানি আয় কমে যাওয়ায় বৈদেশিক বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান খাতটি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দাভাব, আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রয়াদেশের সংকোচন এবং অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের কারণে রপ্তানিকারকরা কঠিন সময় পার করছেন।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মে মাসে দেশের রপ্তানি আয় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। যদিও ঈদুল আজহা উপলক্ষে দীর্ঘ ছুটি এ পতনের একটি কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, তবে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা বলছেন, সমস্যার মূল কারণ কেবল মৌসুমি নয়; বরং আন্তর্জাতিক বাজারের দুর্বল চাহিদা ও উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধিও বড় ভূমিকা রাখছে।
দেশের প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাক শিল্পও চলতি অর্থবছরে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধির মুখে পড়েছে। নিটওয়্যার ও ওভেন—উভয় খাতেই রপ্তানি কমেছে। ফলে সামগ্রিক রপ্তানি আয়ে এর প্রভাব স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।
তবে সব খাতেই যে মন্দা চলছে, তা নয়। ওষুধ, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, প্লাস্টিকপণ্য, পাটজাত সামগ্রী, হোম টেক্সটাইল এবং সাইকেল রপ্তানিতে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। বিশেষ করে ওষুধ ও সাইকেল খাতের অগ্রগতি নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অর্থনীতিবিদদের মতে, ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার মতো বড় বাজারগুলোতে মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে ভোক্তা ব্যয় কমেছে। এর ফলে পোশাকসহ বিভিন্ন পণ্যের নতুন অর্ডার আগের তুলনায় কম আসছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সংঘাত ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করছে।
অন্যদিকে দেশের ভেতরে জ্বালানি সংকট, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং বিনিময় হার নিয়ে অনিশ্চয়তাও রপ্তানিকারকদের প্রতিযোগিতা সক্ষমতাকে দুর্বল করছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কয়েকটি পণ্য ও সীমিতসংখ্যক বাজারের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা বাংলাদেশের রপ্তানি খাতকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।
রপ্তানিকারক সংগঠনের নেতারা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে নতুন ক্রয়াদেশের ঘাটতি বর্তমানে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। বৈশ্বিক ভোক্তা চাহিদা কমে যাওয়ায় অনেক ক্রেতা আগের তুলনায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশের রপ্তানি শিল্পে।
তবে ইতিবাচক দিকও রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের রপ্তানি বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার কয়েকটি দেশে রপ্তানি সম্প্রসারণের ধারাও অব্যাহত রয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, রপ্তানি খাতকে দীর্ঘমেয়াদে শক্তিশালী করতে হলে বাজার ও পণ্যের বহুমুখীকরণে গুরুত্ব দিতে হবে। তৈরি পোশাকের পাশাপাশি ওষুধ, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষিভিত্তিক প্রক্রিয়াজাত পণ্য, চামড়া এবং হালকা প্রকৌশল শিল্পকে আরও বিকশিত করতে পারলে বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও রপ্তানি খাত অধিক স্থিতিশীল ও টেকসই হয়ে উঠবে।