Monday, July 6, 2026

বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানি তেলের দরপতনে উদ্বেগ বাড়ছে বিশ্লেষকদের মধ্যে


ছবিঃ তেল (সংগৃহীত)

আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN 

বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে আবারও নিম্নমুখী হয়েছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম। ওপেক প্লাস জোট আগস্ট থেকে উৎপাদন আরও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ বাড়ার প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি দিয়ে উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল রপ্তানি স্বাভাবিক হওয়ার ইঙ্গিতও দামের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে।

সোমবার লেনদেনের শুরুতে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ০.৬ শতাংশ কমে ৭১.৭১ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দামও কমে দাঁড়ায় ৬৮.৩২ ডলার।

রোববার অনুষ্ঠিত বৈঠকে ওপেক ও রাশিয়াসহ মিত্র দেশগুলো আগস্ট মাস থেকে দৈনিক আরও এক লাখ ৮৮ হাজার ব্যারেল উৎপাদন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়। এর আগে জুন ও জুলাই মাসেও একই পরিমাণ উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে উৎপাদন বৃদ্ধির পুরো প্রভাব এখনো বাজারে পড়েনি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাতের সময় হরমুজ প্রণালি দিয়ে সৌদি আরব, কুয়েত ও ইরাকের মতো প্রধান উৎপাদক দেশগুলোর তেলবাহী জাহাজ চলাচল ব্যাহত হয়েছিল। তবে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হওয়ায় বাজারে সরবরাহ বাড়তে শুরু করেছে।

সাম্প্রতিক তথ্য বলছে, জুন মাসে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তেল রপ্তানি মে মাসের তুলনায় ৩০ লাখ ব্যারেলেরও বেশি বেড়ে দৈনিক এক কোটির বেশি ব্যারেলে পৌঁছেছে। যদিও যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় রপ্তানি এখনো উল্লেখযোগ্যভাবে কম রয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, উৎপাদন বাড়ানোর মাধ্যমে ওপেক প্লাস বাজারে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে চাইলেও বর্তমান চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত সরবরাহ তেলের দামের ওপর চাপ বাড়াতে পারে। তবে কম দাম দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানির ব্যবহার বাড়িয়ে বাজারে নতুন ভারসাম্য তৈরি করতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে একটি আন্তর্জাতিক ব্যাংকের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালে বৈশ্বিক তেলের চাহিদা দৈনিক প্রায় ১৫ লাখ ব্যারেল কমতে পারে। বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি চাহিদা হ্রাস পাওয়ায় এ পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। যদিও বছরের দ্বিতীয়ার্ধে সরবরাহ স্বাভাবিক হলে এবং স্থগিত থাকা চাহিদার কিছু অংশ ফিরে এলে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

অন্যদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি স্পট মার্কেটে ছাড় দিয়ে বড় পরিমাণ অপরিশোধিত তেল বিক্রি করেছে, যা বাজারে অতিরিক্ত সরবরাহের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

এদিকে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, তারা রাতভর অভিযানে রাশিয়ার ইয়ারোস্লাভল ও লেনিনগ্রাদ অঞ্চলের দুটি তেল শোধনাগারে হামলা চালিয়েছে। এই ঘটনাও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের পরিস্থিতির ওপর নজর বাড়িয়েছে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন