- ০৯ আগস্ট, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
পপসংগীতের কিংবদন্তি মাইকেল জ্যাকসনের জীবনভিত্তিক চলচ্চিত্র ‘মাইকেল’ বিশ্ব বক্স অফিসে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। মুক্তির পর থেকেই দর্শকদের ব্যাপক সাড়া পাওয়া ছবিটি এবার সংগীতশিল্পীদের জীবনীভিত্তিক চলচ্চিত্রের মধ্যে সর্বোচ্চ আয়ের রেকর্ড গড়ে শীর্ষস্থান দখল করেছে।
আন্তর্জাতিক বক্স অফিসের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, ছবিটির বৈশ্বিক আয় ৯১১ মিলিয়ন ডলারের বেশি। এর মাধ্যমে এটি দীর্ঘদিন ধরে শীর্ষে থাকা ‘বোহেমিয়ান র্যাপসোডি’–র আয়কে অতিক্রম করেছে। ফলে ‘মাইকেল’ এখন ইতিহাসের সবচেয়ে সফল মিউজিক বায়োপিক হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ছবিটি অসাধারণ সাফল্য পেয়েছে। ইউরোপ, লাতিন আমেরিকা এবং এশিয়ার বিভিন্ন দেশে দর্শকদের আগ্রহ ছবিটির আয় বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। সামনের দিনগুলোতে আরও কয়েকটি বাজারে মুক্তি পাওয়ার কারণে এর আয় এক বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক স্পর্শ করতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
চলচ্চিত্রটির অন্যতম আকর্ষণ ছিল মাইকেল জ্যাকসনের চরিত্রে তাঁর ভাতিজা জাফর জ্যাকসনের অভিনয়। মঞ্চে উপস্থিতি, নৃত্যভঙ্গি এবং চেহারার সাদৃশ্যের কারণে তিনি দর্শক ও সমালোচকদের প্রশংসা কুড়িয়েছেন। অনেকেই মনে করছেন, জাফরের অভিনয় ছবিটির সাফল্যের অন্যতম প্রধান কারণ।
হলিউড নির্মাতা অ্যান্টনি ফুকোয়ার পরিচালনায় নির্মিত এই চলচ্চিত্রে মাইকেল জ্যাকসনের ব্যক্তিগত জীবন, সংগীতজীবনের উত্থান এবং বিশ্বজুড়ে তাঁর সাংস্কৃতিক প্রভাব তুলে ধরা হয়েছে। চিত্রনাট্য রচনা করেছেন জন লোগান।
শুধু আয় নয়, মুক্তির পর একাধিক রেকর্ডও গড়েছে ‘মাইকেল’। সংগীতভিত্তিক জীবনীচিত্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় উদ্বোধনী আয়, বিভিন্ন দেশে সর্বোচ্চ আয়কারী বায়োপিকের স্বীকৃতি এবং প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল চলচ্চিত্রের কৃতিত্ব অর্জন করেছে এটি।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ‘মাইকেল’ এবং ‘বোহেমিয়ান র্যাপসোডি’—দুটি চলচ্চিত্রেরই প্রযোজক গ্রাহাম কিং। ফলে নিজেরই প্রযোজিত একটি চলচ্চিত্রের রেকর্ড আরেকটি চলচ্চিত্রের মাধ্যমে ভেঙে নতুন ইতিহাস গড়েছেন তিনি।
তবে মুক্তির আগে ছবিটি কিছু বিতর্কের মুখেও পড়েছিল। চিত্রনাট্যের একটি অংশ নিয়ে আপত্তি ওঠায় নির্মাতাদের অতিরিক্ত ব্যয়ে পুনরায় শুটিং করতে হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত সেই সিদ্ধান্ত সঠিক প্রমাণিত হয়েছে বলেই মনে করছেন চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা।
সমালোচকদের মতে, ‘মাইকেল’ শুধু একটি সফল বায়োপিক নয়; এটি নতুন প্রজন্মের কাছে পপসম্রাট মাইকেল জ্যাকসনের জীবন, শিল্পকর্ম ও সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকারকে নতুনভাবে তুলে ধরেছে। বক্স অফিসের অভূতপূর্ব সাফল্যও প্রমাণ করছে, মৃত্যুর বহু বছর পরও বিশ্বজুড়ে তাঁর জনপ্রিয়তা এবং প্রভাব অটুট রয়েছে।