Saturday, August 8, 2026

এক দশকে ব্ল্যাকপিংক, গান থেকে বিশ্ব ফ্যাশন চার তারকার আলাদা সাম্রাজ্য


ছবিঃ ‘ব্ল্যাকপিংক’ ব্যান্ডের সদস্যরা (সংগৃহীত)

স্টাফ রিপোর্ট: PNN 

‘হুইসেল’ আর ‘বুমবায়াহ’ দুটি গানের মাধ্যমে ২০১৬ সালের ৮ আগস্ট বিশ্বসংগীতে আত্মপ্রকাশ করেছিল দক্ষিণ কোরিয়ার চার সদস্যের কে-পপ গার্ল গ্রুপ ব্ল্যাকপিংক। জিসু, জেনি, রোজে ও লিসাকে নিয়ে গঠিত দলটি আজ পূর্ণ করছে পথচলার এক দশক।

দশ বছর পূর্তির এই বিশেষ দিনটি চার সদস্য একসঙ্গেই উদ্‌যাপন করছেন। দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলে ভক্তদের সঙ্গে ছোট পরিসরে একটি বিশেষ আয়োজনেও অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাদের। অনুষ্ঠানের স্থান গোপন রাখা হলেও নির্বাচিত ৪০ জন ভক্ত সেখানে উপস্থিত থাকার সুযোগ পাবেন। আয়োজনে চার সদস্যের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রায় এক বছর পর আবারও চার সদস্যকে একসঙ্গে ভক্তদের সামনে দেখা যাবে। এর আগে ২০২৫ সালের জুলাইয়ে সিউলের উপকণ্ঠ গোয়াংয়ে ‘ডেডলাইন’ বিশ্বভ্রমণের একটি কনসার্টে চারজনকে এক মঞ্চে দেখা গিয়েছিল।

এক দশকের পথচলায় ব্ল্যাকপিংক শুধু কে-পপের জনপ্রিয় একটি দল হিসেবে নয়, বিশ্বসংগীতের অন্যতম প্রভাবশালী নারী সংগীতদল হিসেবেও নিজেদের অবস্থান তৈরি করেছে। একের পর এক জনপ্রিয় গান, আন্তর্জাতিক কনসার্ট এবং বিশ্বখ্যাত ফ্যাশন ও বিলাসবহুল ব্র্যান্ডের সঙ্গে সদস্যদের সম্পৃক্ততা তাদের পরিচিতিকে আরও বিস্তৃত করেছে।

২০২২ সালে প্রকাশিত দলটির অ্যালবাম ‘বর্ন পিংক’ আন্তর্জাতিক সংগীতাঙ্গনে বড় সাফল্য পায়। এটি কোনো নারী কে-পপ শিল্পীর প্রথম অ্যালবাম হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের বিলবোর্ড ২০০-এর শীর্ষে জায়গা করে নেয়। একই সময়ে যুক্তরাজ্যের অফিশিয়াল অ্যালবাম চার্টেও প্রথম অবস্থান অর্জন করে অ্যালবামটি।

দীর্ঘ বিরতির পর চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দলীয় প্রকল্প হিসেবে প্রকাশিত হয় ব্ল্যাকপিংকের তৃতীয় ইপি ‘ডেডলাইন’। অ্যালবামটি বিলবোর্ড ২০০-এর তালিকায় অষ্টম স্থানে জায়গা করে নেয়।

ব্ল্যাকপিংকের দশ বছরের যাত্রায় বড় পরিবর্তন আসে ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে। চার সদস্য দলীয় কার্যক্রমের জন্য ওয়াইজি এন্টারটেইনমেন্টের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখলেও ব্যক্তিগত ক্যারিয়ার পরিচালনার ক্ষেত্রে আলাদা পথ বেছে নেন।

জেনি প্রতিষ্ঠা করেন নিজের প্রতিষ্ঠান ‘অড অ্যাটেলিয়ার’। লিসা গড়ে তোলেন ‘লাউড’। জিসু শুরু করেন ‘ব্লিসু’। অন্যদিকে রোজে কাজ শুরু করেন ‘দ্য ব্ল্যাক লেবেল’-এর সঙ্গে।

নিজেদের একক ক্যারিয়ারেও চার সদস্যই পেয়েছেন উল্লেখযোগ্য সাফল্য।

রোজের সঙ্গে ব্রুনো মার্সের ‘আপাতে’ গানটি বিশ্বজুড়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। গানটির সাফল্যের ধারাবাহিকতায় রোজে এমটিভি ভিডিও মিউজিক অ্যাওয়ার্ডসে ‘সং অব দ্য ইয়ার’ পুরস্কার পাওয়া প্রথম কে-পপ শিল্পী হন।

জেনিও একক শিল্পী হিসেবে নিজের অবস্থান আরও শক্ত করেছেন। তার প্রথম একক অ্যালবাম ‘রুবি’ আন্তর্জাতিক শ্রোতাদের মধ্যে সাড়া ফেলে। টেম ইমপালার সঙ্গে করা ‘ড্রাকুলা’ গানটিও বিলবোর্ড হট ১০০ তালিকায় জায়গা করে নেয়।

জিসু সংগীতের পাশাপাশি অভিনয়ে নিজের পরিচিতি তৈরি করেছেন। একক শিল্পী হিসেবে কাজের পরিধি বাড়ানোর পাশাপাশি অভিনয়ের মাধ্যমে নতুন দর্শকের কাছেও পৌঁছেছেন তিনি।

লিসাও সংগীতের গণ্ডি পেরিয়ে অভিনয়ে যুক্ত হয়েছেন। এইচবিওর জনপ্রিয় সিরিজ ‘দ্য হোয়াইট লোটাস’-এ অভিনয়ের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক দর্শকদের সামনে নতুন পরিচয়ে হাজির হন তিনি। চলতি বছর ফিফা বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেও পারফর্ম করেছেন লিসা।

ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারে চার সদস্যের আলাদা পথচলা শুরু হলেও ব্ল্যাকপিংক হিসেবে তাদের বন্ধন অটুট রয়েছে। দলীয় সংগীতের পাশাপাশি একক প্রকল্পেও সাফল্য পাওয়ার পরও ভক্তদের আগ্রহের কেন্দ্রে রয়েছে চার সদস্যকে একসঙ্গে দেখার মুহূর্ত।

আত্মপ্রকাশের এক দশক পর তাই ব্ল্যাকপিংকের গল্প শুধু চারজন শিল্পীর একটি সংগীতদলের সাফল্যের গল্প নয়। এটি কে-পপের বৈশ্বিক বিস্তার, চার শিল্পীর ব্যক্তিগত বিকাশ এবং বিশ্ব বিনোদন ও ফ্যাশন অঙ্গনে এশীয় তারকাদের ক্রমবর্ধমান প্রভাবেরও একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায়।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন