Friday, August 7, 2026

দুই দশক ধরে বক্স অফিসের রাজা স্পাইডার-ম্যান, নতুন সিনেমায় ভাঙল একের পর এক রেকর্ড


ছবিঃ ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’ সিনেমা পোস্টার (সংগৃহীত)

স্টাফ রিপোর্ট: PNN 

সুপারহিরো সিনেমার ইতিহাসে এমন কিছু চরিত্র আছে, যাদের জনপ্রিয়তা সময়ের সঙ্গে কমার বদলে আরও বেড়েছে। সেই তালিকার একেবারে শীর্ষে রয়েছে স্পাইডার-ম্যান। কমিকসের পাতায় জন্ম নেওয়া এই ‘ওয়েব-স্লিঙ্গার’ এখন বিশ্ব সিনেমার সবচেয়ে সফল ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর একটি। শুধু দর্শকের ভালোবাসাই নয়, বক্স অফিসেও প্রতিটি নতুন কিস্তি যেন সাফল্যের নতুন সংজ্ঞা লিখে চলেছে।

সর্বশেষ মুক্তিপ্রাপ্ত ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’ আবারও প্রমাণ করেছে, স্পাইডার-ম্যানের আবেদন এখনো অটুট। মুক্তির কয়েক দিনের মধ্যেই সিনেমাটি বিশ্বব্যাপী এক বিলিয়ন ডলারের বেশি আয় করে নতুন ইতিহাস গড়েছে। উত্তর আমেরিকার উদ্বোধনী সপ্তাহেই এটি নজিরবিহীন ব্যবসা করে অতীতের বেশ কয়েকটি রেকর্ড পেছনে ফেলেছে। বর্তমানে ছবিটির বৈশ্বিক আয় ১.১৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে বলে জানা গেছে।

এর আগে ‘স্পাইডার-ম্যান: নো ওয়ে হোম’ (২০২১) বিশ্বজুড়ে প্রায় ১.৯২ বিলিয়ন ডলার আয় করে ফ্র্যাঞ্চাইজিটির সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক সাফল্যের স্বীকৃতি পেয়েছিল। টম হল্যান্ডের পাশাপাশি টোবি ম্যাগুয়ার ও অ্যান্ড্রু গারফিল্ডকে একসঙ্গে পর্দায় দেখার সুযোগ দর্শকদের মধ্যে তুমুল উন্মাদনা সৃষ্টি করেছিল। সেই সিনেমাই মহামারির পর বিশ্বজুড়ে সিনেমা হলে দর্শকদের ফেরাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

টম হল্যান্ড অভিনীত ‘ফার ফ্রম হোম’ এবং ‘হোমকামিং’—দুটি ছবিও বক্স অফিসে ব্যাপক সাফল্য পায়। বিশেষ করে মার্ভেল সিনেম্যাটিক ইউনিভার্সে স্পাইডার-ম্যানের নতুন অধ্যায় শুরু হওয়ার পর চরিত্রটি তরুণ দর্শকদের কাছে নতুনভাবে জনপ্রিয়তা অর্জন করে।

অন্যদিকে অ্যানিমেশনপ্রেমীদের জন্য তৈরি ‘ইনটু দ্য স্পাইডার-ভার্স’ এবং ‘অ্যাক্রস দ্য স্পাইডার-ভার্স’ ফ্র্যাঞ্চাইজিটিকে ভিন্ন উচ্চতায় নিয়ে যায়। মাইলস মোরেলেসকে কেন্দ্র করে নির্মিত এই দুটি চলচ্চিত্র তাদের ব্যতিক্রমী ভিজ্যুয়াল স্টাইল, আবেগঘন গল্প এবং মাল্টিভার্স ধারণার জন্য দর্শক ও সমালোচকদের সমান প্রশংসা অর্জন করে। এর মধ্যে ইনটু দ্য স্পাইডার-ভার্স অস্কারে সেরা অ্যানিমেটেড চলচ্চিত্রের পুরস্কারও জিতে নেয়।

স্পাইডার-ম্যানের ইতিহাসে অ্যান্ড্রু গারফিল্ড অভিনীত ‘দ্য অ্যামেজিং স্পাইডার-ম্যান’ এবং ‘দ্য অ্যামেজিং স্পাইডার-ম্যান ২’-ও উল্লেখযোগ্য বাণিজ্যিক সাফল্য পায়। যদিও সমালোচকদের মতামত ছিল মিশ্র, তবুও দুটি ছবিই বিশ্বজুড়ে কয়েকশ কোটি ডলারের ব্যবসা করে ফ্র্যাঞ্চাইজির জনপ্রিয়তা ধরে রাখে।

তবে আধুনিক সুপারহিরো চলচ্চিত্রের ভিত্তি রচনা করেছিলেন টোবি ম্যাগুয়ার। ২০০২ সালে মুক্তি পাওয়া ‘স্পাইডার-ম্যান’ শুধু বক্স অফিসেই নয়, গোটা চলচ্চিত্র শিল্পে সুপারহিরো ঘরানার নতুন যুগের সূচনা করেছিল। এরপর ‘স্পাইডার-ম্যান ২’ এবং ‘স্পাইডার-ম্যান ৩’ ধারাবাহিকভাবে বিপুল আয় করে প্রমাণ করে, পিটার পার্কারের গল্প দর্শকদের কাছে সময়ের সীমানা অতিক্রম করা এক অনুভূতির নাম।

দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে মুক্তি পাওয়া স্পাইডার-ম্যান ফ্র্যাঞ্চাইজির প্রতিটি প্রজন্মই নিজস্ব দর্শক তৈরি করেছে। টোবি ম্যাগুয়ার, অ্যান্ড্রু গারফিল্ড কিংবা টম হল্যান্ড—যেই মুখোশের আড়ালেই থাকুক না কেন, স্পাইডার-ম্যানের গল্পের প্রতি দর্শকদের আগ্রহ কখনোই কমেনি।

বিশ্লেষকদের মতে, প্রযুক্তির উন্নয়ন, শক্তিশালী গল্প, আবেগঘন চরিত্র নির্মাণ এবং প্রতিটি প্রজন্মের দর্শকের সঙ্গে সংযোগ তৈরির সক্ষমতাই স্পাইডার-ম্যানকে বিশ্বের অন্যতম সফল চলচ্চিত্র ফ্র্যাঞ্চাইজিতে পরিণত করেছে। সর্বশেষ ‘ব্র্যান্ড নিউ ডে’-এর সাফল্য সেই দীর্ঘ যাত্রায় যোগ করেছে আরেকটি নতুন অধ্যায়।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন