Tuesday, August 4, 2026

গ্র্যামির ওয়েবসাইট থেকে সরানো হলো বিটিএসের দুই জনপ্রিয় পারফরম্যান্স ভিডিও


ছবিঃ বিটিএসের সদস্যেরা (সংগৃহীত)

স্টাফ রিপোর্ট: PNN 

গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডসের ওয়েবসাইট থেকে দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় ব্যান্ড বিটিএসের দুটি বহুল আলোচিত লাইভ পারফরম্যান্সের ভিডিও সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা ও প্রশ্ন। তবে ভিডিও দুটি কেন সরানো হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডসের আয়োজক সংস্থা রেকর্ডিং একাডেমি।

গ্র্যামির ওয়েবসাইটে আগে বিটিএসের ২০২১ সালের ‘ডায়নামাইট’ এবং ২০২২ সালের ‘বাটার’ গানের সরাসরি পরিবেশনার ভিডিও দেখা গেলেও বর্তমানে সেগুলো আর পাওয়া যাচ্ছে না। তবে বিটিএসের নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেলসহ অন্যান্য অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ভিডিও দুটি এখনো প্রকাশ্য রয়েছে।

ভিডিও অপসারণের সময় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ব্যান্ডটির ভক্তরা। গত ২৯ জুলাই সাত সদস্যের বিটিএস এক যৌথ বিবৃতিতে জানায়, ২০২৭ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ৬৯তম গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডসে তারা কোনো গান জমা দেবে না।

বিবৃতিতে বিটিএস জানায়, তারা চায় সংগীতকে ভাষা বা অঞ্চলভিত্তিক পরিচয়ের পরিবর্তে শিল্পমান ও নিজস্ব গুণের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হোক। এ কারণেই আসন্ন গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডে কোনো গান জমা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।

বিটিএসের এ সিদ্ধান্তকে রেকর্ডিং একাডেমির নতুন চালু করা ‘সেরা এশীয় পপসংগীত পরিবেশনা’ বিভাগ নিয়ে তাদের আপত্তির সঙ্গে যুক্ত করছেন অনেক ভক্ত ও সংগীতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি।

নতুন বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, মনোনয়নের জন্য সংশ্লিষ্ট গানে অন্তত একটি এশীয় ভাষা ব্যবহার করতে হবে। কিন্তু বিটিএসের নতুন অ্যালবাম ‘আরিরাং’-এর অধিকাংশ গান ইংরেজি ভাষায় তৈরি। ফলে নতুন বিভাগে তাদের কাজ বিবেচিত হওয়ার সুযোগ নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

সমালোচকদের একাংশের আশঙ্কা, ভাষা ও অঞ্চলভিত্তিক এমন বিভাগ চালু হলে এশীয় শিল্পীদের মূল প্রতিযোগিতামূলক বিভাগ—যেমন ‘সং অব দ্য ইয়ার’—এ অংশগ্রহণ বা স্বীকৃতি পাওয়ার সুযোগ সীমিত হয়ে যেতে পারে।

বিতর্কে বিটিএসের পাশে দাঁড়িয়েছেন দক্ষিণ কোরিয়ার বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব। হুন্দাই কার্ডের প্রধান নির্বাহী টেড চুং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্ন তুলেছেন, এশীয় শিল্পীদের কি আলাদা একটি গণ্ডির মধ্যে রাখা হচ্ছে?

তিনি বলেন, ভাষা বা অঞ্চলকে কেন্দ্র করে সংগীতকে আলাদা শ্রেণিতে ভাগ করা হলে অন্য আন্তর্জাতিক শিল্পীদের ক্ষেত্রেও একই নীতি প্রযোজ্য হওয়া উচিত কি না, সেটিও বিবেচনার বিষয়।

অন্যদিকে রেকর্ডিং একাডেমির প্রধান নির্বাহী হার্ভি ম্যাসন জুনিয়র বিটিএসের সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ব্যান্ডটির সিদ্ধান্তে তিনি হতাশ হলেও একজন সংগীতশিল্পী হিসেবে তাদের অবস্থানকে সম্মান করেন।

তার ভাষ্য, নতুন ‘সেরা এশীয় পপসংগীত পরিবেশনা’ বিভাগ চালুর মূল উদ্দেশ্য এশীয় শিল্পীদের আরও বেশি স্বীকৃতি ও প্রতিনিধিত্বের সুযোগ তৈরি করা।

তবে সংগীতসংশ্লিষ্ট অনেকের মতে, অঞ্চলভিত্তিক পৃথক বিভাগ চালু করার ফলে পশ্চিমা সংগীতের বাইরে থাকা শিল্পীরা মূলধারার বিভাগে প্রতিযোগিতার পরিবর্তে নির্দিষ্ট একটি শ্রেণির মধ্যেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়তে পারেন।

এদিকে গ্র্যামির ওয়েবসাইট থেকে বিটিএসের পুরোনো পারফরম্যান্স ভিডিও সরিয়ে নেওয়ার সঙ্গে ব্যান্ডটির সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা নিয়ে জল্পনা চললেও রেকর্ডিং একাডেমির আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা না পাওয়া পর্যন্ত বিষয়টি নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন