- ০৩ অক্টোবর, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। নারায়ণগঞ্জ
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক সরকারকে উদ্দেশ করে বলেছেন, জনগণকে ‘হাইকোর্ট দেখানোর’ চেষ্টা না করতে। এমন চেষ্টা করা হলে দেশের মানুষ রাজপথে তার জবাব দেবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের মাদানী চত্বরে আয়োজিত এক নাগরিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সিদ্ধিরগঞ্জ থানা শাখা এ সমাবেশের আয়োজন করে।
সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি নির্মূলে কার্যকর পদক্ষেপ, গ্যাস-বিদ্যুৎ ও নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
মামুনুল হক বলেন, ‘আপনারা বাংলাদেশের মানুষকে হাইকোর্ট দেখানোর নতুন চিন্তা করতেছেন। বাঙালিরে হাইকোর্ট দেখানোর চেষ্টা কইরেন না। যদি হাইকোর্ট দেখানোর চেষ্টা করেন, বাঙালি রাজপথ দেখিয়ে ছেড়ে দেবে।’
সরকারের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, তারা যেন শেখ হাসিনার সরকারের মতো কর্তৃত্ববাদী হয়ে না ওঠে। তাঁর ভাষ্য, শেখ হাসিনাকেও বিদেশি সমর্থন টিকিয়ে রাখতে পারেনি।
সমাবেশে ‘রাড্ডা কাণ্ড’ নিয়েও কথা বলেন খেলাফত মজলিসের আমির। তিনি দাবি করেন, ওই ঘটনার দায় শুধু একজন নারী সংসদ সদস্যের ওপর চাপিয়ে দিলে হবে না; এর দায় প্রধানমন্ত্রীকেও নিতে হবে। একই সঙ্গে দলীয় ফোরাম নিয়ন্ত্রণ, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং জনগণের কাছে সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।
মামুনুল হক তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান এবং নিত্যপণ্যের বাজারে সিন্ডিকেট বন্ধের আহ্বান জানান। পাশাপাশি দলীয়করণমুক্ত রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলার কথাও বলেন।
নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, রাজপথে নামার জন্য বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ছয় মাস সময় নিয়েছে। কিন্তু গণভোটের রায় বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরকার ছয় মিনিটও দেরি করেনি এমন অভিযোগ করে তিনি বলেন, সংসদ সদস্যের শপথ নেওয়ার পর ক্ষমতার ভাগ-বাটোয়ারা ও চাঁদাবাজির রাজনীতি শুরু হয়েছে।
নির্বাচন ও গণভোট প্রসঙ্গেও বক্তব্য দেন মামুনুল হক। তিনি বলেন, একই দিনে একই নির্বাচন কমিশনের অধীনে দুটি ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, একটি ভোটে ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ করে তাঁদের নিশ্চিত বিজয় ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। সংসদে গিয়ে আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে কথা বলার সুযোগ ঠেকাতেই এমনটা করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দিন আহমদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন সংগঠনের নায়েবে আমির মাওলানা মাহবুবুল হক।
এ ছাড়া কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুর রহমান হেলাল ও মাওলানা এনামুল হক মুসা, কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ মহানগরীর সভাপতি মাওলানা মামুনুর রশীদ, কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য মাওলানা হোসাইন আহমদ, নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি মাওলানা ওবায়দুল কাদের নদভী এবং মহানগরীর সহসভাপতি খন্দকার আনোয়ার হোসেনসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানা শাখার সভাপতি মাওলানা হাশমত আলীর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মুফতি মাহমুদুল হাসানের সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন নারায়ণগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক মাওলানা এমদাদুল্লাহ, মহানগরীর সাধারণ সম্পাদক আল আমিন রাকিব, নির্বাহী সদস্য মাওলানা সাকিব সাইফী, যুব মজলিসের সভাপতি মাওলানা ফাতীহ মুহাম্মাদ সোলাইমান, ছাত্র মজলিসের সভাপতি মুহাম্মাদ আতিকুর রহমানসহ স্থানীয় নেতারা।