- ০২ অক্টোবর, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
নিত্যদিনের খাবারের তালিকায় তুলনামূলক সাশ্রয়ী আমিষের অন্যতম উৎস ডিম। মাছ-মাংসের দাম বাড়লে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের অনেকেই ডিমের ওপর নির্ভর করেন। তবে এবার সেই ডিমের বাজারেও স্বস্তি নেই। এক বছরের ব্যবধানে রাজধানীতে ফার্মের লাল বা বাদামি ডিমের ডজনপ্রতি দাম বেড়েছে সর্বোচ্চ ২৫ টাকা।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাজধানীর রায়ের বাজার ও মোহাম্মদপুর কৃষি বাজার ঘুরে নিত্যপণ্যের দামের এমন চিত্র দেখা গেছে।
বাজার সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১ অক্টোবর যে ডজন ডিমের দাম ছিল ১৩৫ টাকা, চলতি বছরের একই দিনে তা বিক্রি হচ্ছে ১৫৫ থেকে ১৬০ টাকায়। কোথাও কোথাও চারটি ডিম বিক্রি হচ্ছে ৫৫ টাকায়। ফলে আগে তুলনামূলক কম খরচে পাওয়া গেলেও ডিমের বাড়তি দামও এখন পারিবারিক খাদ্য ব্যয়ে চাপ তৈরি করছে।
সবজির বাজারেও স্বস্তি নেই। রাজধানীর বাজারে শীতের আগাম সবজি শিম বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ২০০ টাকায়। বিপরীতে সবচেয়ে কম দামে পাওয়া যাচ্ছে পেঁপে, যার কেজি ৩০ টাকা।
বেগুন, করলা, বরবটি, ঢ্যাঁড়স, পটল ও কাঁকরোলসহ অধিকাংশ সাধারণ সবজির দাম কেজিতে ৭০ থেকে ১২০ টাকার মধ্যে। শসা পাওয়া যাচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকায়। তবে দেশি শসার দাম তুলনামূলক বেশি—কেজি ৮০ থেকে ১০০ টাকা।
বাজারে লম্বা বেগুন ১০০ টাকা, গোল বেগুন ১২০ টাকা এবং টমেটো ১২০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বরবটি, ঝিঙে ও করলার দাম ৮০ টাকা করে। একটি লাউয়ের দাম ৫০ থেকে ৭০ টাকা এবং কচুরমুখি ৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
তবে সবজির বাজারে কিছুটা স্বস্তি এসেছে কাঁচা মরিচে। কয়েক সপ্তাহ আগে কেজিপ্রতি ২০০ টাকা পর্যন্ত ওঠা মরিচ এখন মানভেদে ১২০ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাজারে সরবরাহ বাড়ায় দাম কমেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
ক্রেতাদের অভিযোগ, একসঙ্গে বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়ায় সীমিত আয়ের মানুষের সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ছে। বাজারে আবুল মিয়া নামে এক ক্রেতা বলেন, বেগুন ১০০ টাকা, করলা ৮০ টাকা ও ছোট একটি লাউ ৫০ টাকায় কিনেছেন। এক পোয়া কাঁচা মরিচের জন্যও দিতে হয়েছে ৪০ টাকা। তার ভাষায়, বাজারে প্রায় সবকিছুর দামই বেশি।
মুরগির বাজারেও বড় কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে ব্রয়লার মুরগি কেজি ১৮০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ডিমের দামও আগের তুলনায় কমেনি। বিক্রেতা হাসান জানান, ফার্মের মুরগির ডজন ডিম ১৫৫ টাকায় বিক্রি করছেন।
মাছের বাজারে দাম প্রজাতি ও আকারভেদে ভিন্ন। তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা, পাঙাশ ২২০ থেকে ২৩০ টাকা, রুই-কাতলা ৩৮০ থেকে ৪২০ টাকা এবং চিংড়ি ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
এ ছাড়া পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, বড় রুই ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা, ট্যাংরা ৭০০ টাকা, ভেটকি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা এবং বাইম ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে। দেশি কইয়ের দাম ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, চাষের কই ৩০০ টাকা, পোয়া ২৬০ টাকা এবং শোল ৭০০ টাকা কেজি। চাষের শিং মাছ আকারভেদে ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
মাছের বাজারে মাঝারি আকারের রুই ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকার মধ্যেও পাওয়া যাচ্ছে। তবে রূপচাঁদা, শোল ও নদীর বেলে মাছের ক্ষেত্রে কেজিপ্রতি দাম ১ হাজার টাকার ওপরে উঠছে। মাছ জীবিত না মৃত এবং আকারের ওপরও দামে পার্থক্য হচ্ছে। একই বাজারে সময়ভেদে কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত ওঠানামা করতে পারে।
মাছ বিক্রেতা আবির ইসলাম বলেন, বর্তমানে মাছের দাম মোটামুটি আগের পর্যায়েই রয়েছে। তেলাপিয়া ২৫০ টাকা এবং পাঙাশ ২২০ টাকা কেজিতে বিক্রি করছেন তিনি। তার মতে, মাছের দাম মূলত সরবরাহ ও চাহিদার ওপর নির্ভর করে। দিনের শুরুতে যে দাম থাকে, বিকেলের দিকে তা বদলে যেতে পারে।
সব মিলিয়ে রাজধানীর বাজারে ডিম, সবজি, মুরগি ও মাছ প্রধান খাদ্যপণ্যের বেশ কয়েকটির দাম এখনো সাধারণ ক্রেতার নাগালের মধ্যে স্বস্তিদায়ক পর্যায়ে আসেনি। ফলে সীমিত আয়ের পরিবারগুলোকে প্রতিদিনের বাজার করতে হিসাব কষেই পণ্য কিনতে হচ্ছে।