- ২৫ জুলাই, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
বাধ্যতামূলক শ্রম প্রতিরোধে আইন যথাযথভাবে বাস্তবায়ন না করার অভিযোগ তুলে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৬০টি দেশের বিভিন্ন পণ্যের ওপর নতুন করে আমদানি শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন। নতুন এ শুল্কহার শুক্রবার (২৪ জুলাই) থেকে কার্যকর হচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি প্রকাশনা ফেডারেল রেজিস্টার-এ প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, নতুন এ সিদ্ধান্তের আওতায় দেশভেদে ১০ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করা হবে। যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি হওয়া প্রায় ৯৯ দশমিক ৪ শতাংশ বিদেশি পণ্য এই নীতির প্রভাবের মধ্যে পড়বে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
নতুন শুল্ক কাঠামো অনুযায়ী, বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, যুক্তরাজ্য, কানাডা, মালয়েশিয়া ও মেক্সিকো থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক বসানো হবে। অন্যদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান ও সুইজারল্যান্ডের পণ্যে বিদ্যমান শুল্কের সঙ্গে সমন্বয় করে মোট ১০ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক ধার্য করা হয়েছে। এছাড়া চীনসহ আরও ৩৮টি দেশ সর্বোচ্চ ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্কের আওতায় পড়ছে।
জানা গেছে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্প প্রশাসনের আগের ‘পারস্পরিক শুল্ক’ ব্যবস্থা বাতিল করে দেয়। এরপর অস্থায়ীভাবে ১৫০ দিনের জন্য ১০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর করা হয়েছিল, যার মেয়াদ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই নতুন এই নীতি কার্যকর হচ্ছে। তবে ইতোমধ্যে পরিবহনে থাকা পণ্য আগামী ২৮ জুলাই পর্যন্ত নতুন শুল্কের বাইরে থাকবে।
নতুন শুল্ক আরোপে ট্রাম্প প্রশাসন এবার ১৯৭৪ সালের মার্কিন বাণিজ্য আইনের ৩০১ ধারা ব্যবহার করেছে। বাণিজ্য আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আইনি কাঠামোর আওতায় নেওয়া সিদ্ধান্ত আদালতে চ্যালেঞ্জ করা তুলনামূলকভাবে কঠিন।
তবে সব ধরনের পণ্য এই শুল্কের আওতায় আসছে না। তেল ও গ্যাস, সার, নির্দিষ্ট কিছু খাদ্যপণ্য, পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তা-সংক্রান্ত বিধানের আওতাভুক্ত গাড়ি, ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম, তামা এবং যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডা বাণিজ্য চুক্তির (ইউএসএমসিএ) শর্ত পূরণকারী পণ্য শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে।
মার্কিন প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তে ইতোমধ্যে বিভিন্ন দেশ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। নরওয়ে বলেছে, তাদের দেশে বাধ্যতামূলক শ্রম প্রতিরোধে কার্যকর আইন রয়েছে, তাই এ ধরনের শুল্কের কোনো যৌক্তিকতা নেই। অস্ট্রেলিয়া ও ব্রাজিলও সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে। অন্যদিকে কানাডা আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আশাবাদ ব্যক্ত করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রির বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিন ধরেই বাধ্যতামূলক শ্রম নিষিদ্ধ এবং এ আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হয়। একই মানদণ্ড বাণিজ্য অংশীদার দেশগুলোরও অনুসরণ করা উচিত।
ট্রাম্প প্রশাসনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা দাবি করেন, এই পদক্ষেপের লক্ষ্য শুধু শুল্ক আরোপ নয়; বরং বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় বাধ্যতামূলক শ্রমের ব্যবহার নিরুৎসাহিত করা এবং মানবাধিকার সুরক্ষাকে জোরদার করা।
তবে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, মানবাধিকার ইস্যুর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্য ও কৌশলগত স্বার্থও এই সিদ্ধান্তের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বিশেষ করে চীনের সঙ্গে চলমান বাণিজ্য প্রতিযোগিতা এবং বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে নতুন ভারসাম্য তৈরির কৌশলের অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপকে দেখা হচ্ছে।
বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল দেশগুলোর রপ্তানিকারকদের জন্য এই নতুন শুল্ক কতটা প্রভাব ফেলবে, তা এখন আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মহলের অন্যতম আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে।