Wednesday, February 11, 2026

আওয়ামী লীগের ঘাঁটিগুলোতে নতুন সমীকরণ, বিএনপি–জামায়াতের নজর ‘ভাসমান’ ভোটে


ছবিঃ বিভিন্ন কেন্দ্রে ব্যালট বাক্স পাঠানোর প্রস্তুতি (সংগৃহীত)

PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে হলেও দেশের বেশ কিছু আসনে ভোটের সমীকরণ ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে। বিশেষ করে যেসব আসনে অতীতে আওয়ামী লীগ ধারাবাহিকভাবে জয়ী হয়েছে, সেসব এলাকায় এবার দলটির অনুপস্থিতিতে নতুন হিসাব-নিকাশ শুরু হয়েছে। আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় এবং দলটি নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় তাদের সমর্থক ভোটারদের সমর্থন এখন অন্য প্রার্থীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, অন্তত ৩০টির মতো আসনে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত ভোটারদের টানতে বিএনপি, জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা নানামুখী কৌশল নিচ্ছেন। কোথাও সাবেক আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ, কোথাও প্রভাবশালী নেতাদের পারিবারিক কবর জিয়ারত, আবার কোথাও নিরাপত্তা ও হয়রানি-মুক্ত থাকার আশ্বাস—এসবই এখন নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হয়ে উঠেছে।

মাদারীপুরের তিনটি আসন দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের প্রভাবাধীন ছিল। এবার সেখানে বিএনপি ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা আওয়ামী লীগ-ঘনিষ্ঠ পরিবার ও নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়েছেন। এক আসনে বিএনপির প্রার্থী স্থানীয় এক সাবেক আওয়ামী লীগ নেতার কবর জিয়ারত করার পর কয়েকজন নেতা প্রকাশ্যে তাঁর পক্ষে সমর্থন জানান। সংশ্লিষ্ট প্রার্থী বলেন, প্রতিহিংসার রাজনীতির অবসান চান তিনি এবং নিরপরাধ কেউ যেন আতঙ্কে না থাকেন।

আরেক আসনে কারাবন্দী এক সাবেক প্রভাবশালী নেতার পরিবারের কবর জিয়ারত করেছেন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা। স্থানীয়ভাবে আলোচনা রয়েছে, আওয়ামী লীগ-সমর্থকদের একটি অংশ নীরবে অবস্থান বদলাচ্ছেন।

শরীয়তপুরে গত কয়েক সপ্তাহে আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। স্থানীয় পর্যায়ে দলীয় দিকনির্দেশনার অভাব ও নিরাপত্তা বিবেচনায় এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন কয়েকজন নেতা। বিএনপির প্রার্থীর সঙ্গে বৈঠক করে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন অনেকে।

গোপালগঞ্জ ঐতিহ্যগতভাবে আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। যদিও প্রকাশ্যে দলবদলের ঘটনা কম, তবু ভোট টানতে বিভিন্ন প্রার্থী ঐতিহাসিক স্থান পরিদর্শন ও উন্নয়ন–নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। ফরিদপুরেও কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতা বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। বিএনপি প্রার্থীরা বলছেন, নিরপরাধ কেউ হয়রানির শিকার হবেন না।

বাগেরহাটে বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা রাজনৈতিক ভিন্নতার কারণে কাউকে হয়রানি না করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। ঠাকুরগাঁওয়ে সংখ্যালঘু ভোটারদের আস্থা অর্জনে সক্রিয় দেখা যাচ্ছে বিএনপি ও জামায়াত উভয় প্রার্থীকে। ধর্মীয় স্থানে গিয়ে মতবিনিময় ও নিরাপত্তার আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে।

জামালপুর ও ময়মনসিংহের কয়েকটি আসনে আওয়ামী লীগের কিছু নেতা প্রকাশ্যে বিএনপি বা জামায়াত প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। স্থানীয় আওয়ামী লীগ কর্মীদের একাংশ বলছেন, বর্তমান বাস্তবতায় হয়রানি এড়াতে তারা নতুন সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। প্রার্থীরা দলমত-নির্বিশেষে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।

সব মিলিয়ে আওয়ামী লীগ-অধ্যুষিত আসনগুলোতে তাদের ভোটব্যাংক কোন দিকে সরে যায়, তার ওপরই অনেক ক্ষেত্রে ফলাফল নির্ভর করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। এবারের নির্বাচনে তাই প্রচলিত সমীকরণের বাইরে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হয়েছে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন