- ০৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
শেয়ারবাজারে অভিষেকেই চাপের মুখে পড়েছে ভারতের লজিস্টিকস সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান শ্যাডোফ্যাক্স। বুধবার লেনদেনের শুরুতে কোম্পানিটির শেয়ার ইস্যু মূল্যের তুলনায় প্রায় ৯ শতাংশ কমে যায়। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, কয়েকটি বড় ই-কমার্স ও কুইক-কমার্স প্ল্যাটফর্মের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগই এর প্রধান কারণ।
বেঙ্গালুরু ভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটি প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) থেকে প্রায় ১ হাজার ৯০৭ কোটি রুপি সংগ্রহ করেছে। ১১৮ থেকে ১২৪ রুপি দামের ব্যান্ডে শেয়ার ইস্যু করা হলেও প্রথম দিন লেনদেনে শেয়ারের দাম নেমে আসে প্রায় ১১২ রুপিতে। এতে তালিকাভুক্তির সময় কোম্পানিটির বাজারমূল্য দাঁড়ায় আনুমানিক ৬ হাজার ৪৭০ কোটি রুপি, যা চলতি বছরের শুরুতে প্রাইভেট বিনিয়োগ পর্যায়ের মূল্যায়নের কাছাকাছিই রয়েছে।
২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠিত শ্যাডোফ্যাক্স ভারতের বিভিন্ন শহরে থার্ড-পার্টি লজিস্টিকস সেবা দিয়ে থাকে। প্রতিষ্ঠানটি মূলত ই-কমার্স মার্কেটপ্লেস, কুইক-কমার্স ও কনজ্যুমার ইন্টারনেট কোম্পানিগুলোর জন্য শেষ-মাইল ও ইনট্রা-সিটি ডেলিভারি পরিচালনা করে। ফ্লিপকার্ট, মিশো, জেপ্টো ও জোম্যাটোর মতো বড় প্ল্যাটফর্মগুলো তাদের প্রধান গ্রাহক, যাদের থেকেই কোম্পানিটির মোট আয়ের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ আসে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই উচ্চমাত্রার গ্রাহক নির্ভরতা ভবিষ্যতে ব্যবসার ঝুঁকি বাড়াতে পারে—বিশেষ করে বড় ক্লায়েন্টদের চাহিদা বা কৌশলে পরিবর্তন এলে।
শ্যাডোফ্যাক্সের শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে রয়েছে ফ্লিপকার্ট, টিপিজি নিউকোয়েস্ট, কোয়ালকম এবং বিশ্বব্যাংক-সমর্থিত ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স করপোরেশন (আইএফসি)। আইপিওতে বিদ্যমান কিছু বিনিয়োগকারী তাদের শেয়ার বিক্রি করলেও প্রতিষ্ঠাতা অভিষেক বানসাল ও বৈভব খান্ডেলওয়াল শেয়ার বিক্রি করেননি। তালিকাভুক্তির পরও তারা মিলিতভাবে প্রায় ২০ শতাংশ মালিকানা ধরে রাখছেন।
মুম্বাইয়ে আইপিও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শ্যাডোফ্যাক্সের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী অভিষেক বানসাল বলেন, “আমরা এই আইপিওকে গন্তব্য হিসেবে দেখছি না। এটি আমাদের জন্য নতুন সম্ভাবনার শুরু। স্বল্পমেয়াদি ফল নয়, দীর্ঘমেয়াদি ভবিষ্যৎ গড়াই আমাদের লক্ষ্য।”
প্রসপেক্টাস অনুযায়ী, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ছয় মাসে শ্যাডোফ্যাক্সের কার্যক্রম থেকে আয় হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৮০৬ কোটি রুপি, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। একই সময়ে কোম্পানিটির মুনাফাও দ্বিগুণের বেশি বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২১ কোটি রুপিতে, মূলত ডেলিভারি ভলিউম বৃদ্ধির কারণে।
আইপিও থেকে পাওয়া অর্থের একটি বড় অংশ লজিস্টিকস নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ, নতুন ডেলিভারি ও সর্টিং সেন্টার স্থাপন, ভাড়া ব্যয় পরিশোধ এবং ব্র্যান্ডিং ও বিপণনে ব্যয় করা হবে। পাশাপাশি সম্ভাব্য অধিগ্রহণ ও করপোরেট প্রয়োজনে কিছু অর্থ সংরক্ষণ রাখার পরিকল্পনাও রয়েছে।
বর্তমানে শ্যাডোফ্যাক্স সারা ভারতে প্রায় ১ কোটি ৪৭ লাখ পিন কোড এলাকায় কার্যক্রম চালাচ্ছে এবং তাদের লজিস্টিকস অবকাঠামোর আয়তন প্রায় ৩৫ লাখ বর্গফুট।
উল্লেখ্য, শ্যাডোফ্যাক্সের বড় প্রতিদ্বন্দ্বী ডেলিভারি ২০২২ সালে শেয়ারবাজারে আসে। তুলনামূলকভাবে ডেলিভারির প্রবৃদ্ধি ধীর হলেও তাদের আয় অনেক বেশি, যা ভারতের লজিস্টিকস খাতে প্রতিযোগিতার ভিন্ন বাস্তবতা তুলে ধরছে।