- ০৭ নভেম্বর, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
অ্যাপলের নতুন ভাঁজযোগ্য স্মার্টফোন আইফোন ডুওর জন্য অ্যাপের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। ডিভাইসটির পর্দার আকার ও ভাঁজযোগ্য নকশার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তৈরি এক লাখের বেশি অ্যাপ ইতিমধ্যে অ্যাপ স্টোরে প্রকাশিত হয়েছে। প্রতিদিন আরও হাজার হাজার নতুন অ্যাপ যুক্ত হচ্ছে বলে জানিয়েছে অ্যাপল।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) প্রতিষ্ঠানটি এ তথ্য প্রকাশ করে। আইফোন ডুওর প্রাথমিক পর্যালোচনায় ডিভাইসটির জন্য বিশেষভাবে তৈরি অ্যাপের স্বল্পতা নিয়ে সমালোচনা হয়েছিল। তবে অ্যাপলের দাবি, সফটওয়্যার ও অ্যাপের ক্ষেত্রে সেই সীমাবদ্ধতা দ্রুত কাটিয়ে উঠছে।
নতুন করে আইফোন ডুওর উপযোগী হিসেবে যুক্ত হওয়া উল্লেখযোগ্য অ্যাপের তালিকায় রয়েছে মাইক্রোসফট ওয়ার্ড ও আউটলুক, জুম, এনবিএ ও এনএইচএলের স্পোর্টস অ্যাপ, অনলাইন কেনাকাটার প্ল্যাটফর্ম ইটসি ও এলটিকে। এ ছাড়া গুডনোটস, এক্সট্রা, হ্যালাইড মার্ক থ্রি ক্যামেরা অ্যাপসহ বেশ কয়েকটি উৎপাদনশীলতা ও সৃজনশীল কাজের অ্যাপও যুক্ত হয়েছে।
এর আগে থেকেই নেটফ্লিক্স, ইউটিউব, ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপের মতো জনপ্রিয় অ্যাপ আইফোন ডুওর পর্দার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল।
আইফোন ডুওর বড় পর্দা ও ভাঁজযোগ্য নকশার সুবিধা পুরোপুরি কাজে লাগাতে অ্যাপগুলোকে বিশেষভাবে অপটিমাইজ করতে হয়। যেসব অ্যাপ এখনো ডিভাইসটির উপযোগী করে তৈরি করা হয়নি, সেগুলো ব্যবহারের সময় পর্দার এক পাশে কালো অংশ দেখা যায়। এতে কার্যকর স্ক্রিন স্পেস কমে যায়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ফিচারও অতিরিক্ত মেনুর আড়ালে চলে যায়।
অ্যাপল জানিয়েছে, নতুন ডিভাইসটির জন্য অ্যাপ তৈরি ও হালনাগাদে ডেভেলপারদের সহায়তা দিতে বিশ্বের ১৯টি শহরে সরাসরি ৫০টির বেশি কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে। এসব কর্মশালায় দুই হাজারের বেশি অ্যাপ নির্মাতা অংশ নিয়েছেন। সেখানে তাঁরা আইফোন ডুও ব্যবহার করে নিজেদের অ্যাপের নকশা ও কার্যকারিতা উন্নয়নের সুযোগ পেয়েছেন।
অ্যাপলের বিশ্বব্যাপী ডেভেলপার সম্পর্ক বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট সুসান প্রেসকট এক বিবৃতিতে বলেন, ডেভেলপাররা যেভাবে দ্রুত আইফোন ডুওর সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নিয়েছেন, তা আনন্দের। তাঁদের সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী উদ্যোগের প্রশংসা করে তিনি জানান, আরও বেশি অ্যাপ অপটিমাইজ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হালনাগাদের গতিও বাড়বে বলে তাঁরা আশা করছেন।
আইওএস ২৭-এর জন্য হালনাগাদ এবং আইফোন ডুওর উপযোগী করা অ্যাপের তালিকায় আরও রয়েছে স্পটিফাই, সিবিএস, টুবি, বিবিসি আইপ্লেয়ার, ইয়াহু ফ্যান্টাসি স্পোর্টস, ফেসবুক মেসেঞ্জার, গুগল চ্যাট, চ্যাটজিপিটি ও গ্রক বট।
এ ছাড়া মাইক্রোসফট কোপাইলট, এক্সেল, পাওয়ারপয়েন্ট, এসএপি কনকার, ক্যানভা, সাবস্ট্যাক, দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট, ইয়াহু নিউজ, গুগল ট্রান্সলেট, স্ট্রাভা, মাইফিটনেসপাল, টেসলা রোবোট্যাক্সি, প্রাইসলাইন, ডমিনোজ, টাকো বেল এবং দ্য ওয়েদার চ্যানেলের মতো অ্যাপও এ তালিকায় রয়েছে।
তবে অ্যাপল যে অ্যাপগুলোর নাম জানিয়েছে, সেগুলোর সব হালনাগাদ এখনো ব্যবহারকারীদের জন্য পুরোপুরি উন্মুক্ত হয়নি। যেমন স্পটিফাইয়ের ক্ষেত্রে এখনো পর্দার পাশে কালো অংশ দেখা যাচ্ছে। পর্যালোচনার জন্য ব্যবহৃত আইফোন ডুওতেও অ্যাপ স্টোরে স্পটিফাইয়ের নতুন সংস্করণ ডাউনলোডের বিজ্ঞপ্তি পাওয়া যায়নি। তবে অ্যাপলের দেওয়া তালিকা অনুযায়ী, এসব হালনাগাদ শিগগিরই ব্যবহারকারীদের কাছে পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অ্যাপের সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি আইফোন ডুওর বাজার চাহিদাও প্রত্যাশার চেয়ে বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে। ২৫৬ গিগাবাইট সংস্করণের প্রারম্ভিক দাম ১ হাজার ৯৯৯ ডলার হলেও বিক্রি শুরুর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই প্রাথমিক মজুত শেষ হয়ে যায়। ফলে নতুন অর্ডারের ক্ষেত্রে সরবরাহের সময় আগামী বছর পর্যন্ত পিছিয়ে গেছে।
চলতি সপ্তাহে আয়সংক্রান্ত এক আলোচনায় অ্যাপল জানিয়েছে, আইফোন ডুওর সরবরাহ সংকট কবে নাগাদ কাটবে, তা নির্দিষ্ট করে বলা কঠিন। ফলে নতুন ডিভাইসটির জন্য অ্যাপের সংখ্যা বাড়লেও ক্রেতাদের হাতে ফোন পৌঁছাতে অপেক্ষা করতে হতে পারে।