Wednesday, November 4, 2026

আয় বাড়লেও এআই অবকাঠামোর ব্যয়ে চাপে অ্যানথ্রোপিক


ছবিঃ অ্যানথ্রোপিক (সংগৃহীত)

স্টাফ রিপোর্ট: PNN

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির প্রস্তুতির মধ্যে নিজেদের আর্থিক অবস্থার আরও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রোপিক। নতুন নথিতে দেখা গেছে, আয় দ্রুত বাড়লেও কম্পিউটিং বা এআই চালানোর অবকাঠামো বাবদ ব্যয় আরও দ্রুত বেড়েছে। ফলে এ খাতে কোম্পানির মুনাফার ব্যবধান সংকুচিত হয়েছে।

সোমবার প্রকাশিত হালনাগাদ নথিতে চলতি বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসের আর্থিক তথ্য যুক্ত করেছে অ্যানথ্রোপিক। আগের সপ্তাহে প্রকাশিত প্রাথমিক নথিতে জুনের শেষ পর্যন্ত হিসাব ছিল। নতুন তথ্য অনুযায়ী, তৃতীয় প্রান্তিকে কোম্পানির আয় দাঁড়িয়েছে ১৭ বিলিয়ন ডলারে; আগের প্রান্তিকে তা ছিল ১১ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার। তবে একই সময়ে পরিচালন লোকসানও বেড়েছে, যার বড় কারণ কম্পিউটিং ব্যয়ের ঊর্ধ্বগতি।

নথি অনুযায়ী, তৃতীয় প্রান্তিকে কম্পিউটিং খাতে ব্যয় হয়েছে মোট আয়ের ৫৮ শতাংশ। আগের প্রান্তিকে এ হার ছিল ৪৮ শতাংশ। অর্থাৎ আয় বাড়লেও কম্পিউটিং ব্যয়ের চাপ কমেনি। বরং প্রাথমিক শেয়ার বিক্রির প্রস্তুতির সময়ে বিনিয়োগকারীদের সামনে লাভজনকতার উন্নতির প্রমাণ তুলে ধরার বদলে ব্যয়ের অনুপাত বেড়েছে।

প্রতিবেদনে থাকা হিসাবচিত্রেও এই প্রবণতা দেখা যায়। ২০২৫ সালের শুরু থেকে কম্পিউটিংয়ে ব্যয় করা প্রতি ডলারের বিপরীতে আয় ধারাবাহিকভাবে বাড়ছিল। চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে তা সাময়িকভাবে দুই ডলারের সামান্য ওপরে ওঠে, পরে নেমে আসে ১ দশমিক ৭২ ডলারে।

অ্যানথ্রোপিকের ব্যয় বৃদ্ধির পেছনে দ্রুত বাড়তে থাকা চাহিদাকে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তৃতীয় প্রান্তিকে কম্পিউটিংয়ের মোট বিল দাঁড়িয়েছে ১০ বিলিয়ন ডলারে। এর মধ্যে ৫ বিলিয়ন ডলারের কম্পিউটিং স্বল্পমেয়াদি চুক্তির আওতায় নেওয়া হয়েছে। কোম্পানির নথিতে বলা হয়েছে, এসব চুক্তির ব্যয় বহু বছরের চুক্তিতে পাওয়া একই ধরনের সক্ষমতার তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

চাহিদা মেটাতে দ্রুত কম্পিউটিং সক্ষমতা জোগাড় করতে গিয়ে বেশি দামে সেবা নিতে হচ্ছে অ্যানথ্রোপিককে। এ ধরনের চুক্তির মধ্যে রয়েছে স্পেসএক্সের সঙ্গে মাসে ১ দশমিক ২৫ বিলিয়ন ডলারের কম্পিউটিং চুক্তি এবং এনস্কেল, আকামাই ও ভোল্টার সঙ্গে কয়েক বিলিয়ন ডলারের চুক্তি। এসব প্রতিষ্ঠানকে এআই শিল্পে ‘নিওক্লাউড’ বলা হয়—তারা সাধারণত তুলনামূলক ছোট, নমনীয় চুক্তিতে কম্পিউটিং সুবিধা দেয়, তবে খরচ বেশি হতে পারে।

নিজস্ব কম্পিউটিং সক্ষমতা বাড়িয়ে ব্যয় কমানোর চেষ্টা করছে অ্যানথ্রোপিক। এ লক্ষ্যে ‘অ্যানথ্রোপিক ডাইরেক্ট’ নামে একটি উদ্যোগের কথা জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে চাহিদা যে গতিতে বাড়ছে, তাতে নিজস্ব অবকাঠামো দিয়ে তা সামাল দেওয়া কঠিন হতে পারে। ফলে আপাতত বাইরের কম্পিউটিং সরবরাহকারীদের ওপর নির্ভরতা বজায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

কোম্পানির নথিতে বলা হয়েছে, আগামী দিনগুলোতেও অবকাঠামো ও কম্পিউটিং ব্যয় বাড়বে এবং তা পরিচালন ব্যয়ের সবচেয়ে বড় খাত হিসেবেই থাকবে। বহু বছরের চুক্তির আওতায় নতুন সক্ষমতা যুক্ত হওয়ার পাশাপাশি কম্পিউটিংয়ে আরও বিনিয়োগের পরিকল্পনাও রয়েছে তাদের।

আয় দ্রুত বাড়তে থাকায় এই ব্যয় আপাতত বিনিয়োগকারীদের কাছে বড় উদ্বেগ নাও হতে পারে। কিন্তু ডেটা সেন্টার নির্মাণে বিলম্ব, অর্থায়নের ব্যয় বৃদ্ধি বা স্থানীয় বিরোধের কারণে অবকাঠামো সম্প্রসারণ ধীর হয়ে গেলে অ্যানথ্রোপিকসহ এআই প্রতিষ্ঠানগুলো চাপে পড়তে পারে। কোম্পানির ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধি তাই শুধু চাহিদার ওপর নয়, কম্পিউটিং সক্ষমতার প্রাপ্যতা ও তার দামের ওপরও নির্ভর করছে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন