- ০৭ নভেম্বর, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই নতুন বিনিয়োগ পর্বে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ১০০ কোটি ডলার সংগ্রহ করেছে বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ। এ বিনিয়োগের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানটির বাজারমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ২৫ হাজার কোটি ডলার বা ১.২৫ ট্রিলিয়ন ডলার।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য প্রকাশ করে ব্লুমবার্গ। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১ হাজার ১০০ কোটি ডলারের এই অর্থ বৃহত্তর একটি তহবিল সংগ্রহ কার্যক্রমের অংশ। পুরো বিনিয়োগ পর্ব এখনো চূড়ান্ত হয়নি। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এটি সম্পন্ন হতে পারে এবং মোট তহবিলের পরিমাণ প্রায় ২ হাজার কোটি ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে একটি সূত্র জানিয়েছে।
এর আগে গত সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে ব্লুমবার্গ জানিয়েছিল, নতুন বিনিয়োগ পর্বে ৩ হাজার কোটি ডলার সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে ওপেনএআই। তবে এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, সেই লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় সংগৃহীত অর্থের পরিমাণ কম।
এ বিষয়ে ওপেনএআইয়ের কাছে মন্তব্য জানতে চেয়েছে প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম টেকক্রাঞ্চ। তবে প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ওপেনএআইয়ের তহবিল সংগ্রহের খবর প্রকাশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এআই খাতের আরেক প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিকের সম্ভাব্য বাজারমূল্য নিয়েও নতুন তথ্য সামনে আসে। ব্লুমবার্গের পৃথক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অ্যানথ্রপিকের সম্ভাব্য শেয়ার কিনতে আগ্রহী কিছু বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানটির প্রত্যাশিত মূল্যায়নের চেয়ে অনেক কম দাম বিবেচনা করছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, অ্যানথ্রপিকের মূল্যায়ন ১ লাখ ১০ হাজার কোটি ডলারে নেমে আসতে পারে বলে ধারণা করছেন কিছু সম্ভাব্য বিনিয়োগকারী। অথচ প্রায় এক মাস আগেও প্রতিষ্ঠানটির মূল্যায়ন ২ লাখ কোটি ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে প্রত্যাশা ছিল।
এ পরিস্থিতি এআই খাতের বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর ভবিষ্যৎ মূল্যায়ন ও বিনিয়োগ পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে।
ওপেনএআই চলতি বছর শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার ইঙ্গিত দিলেও পরে সেই পরিকল্পনা পিছিয়ে দেয়। এখন প্রতিষ্ঠানটি আগামী ২০২৭ সালের কোনো এক সময়ে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে শেয়ারবাজারে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সম্প্রতি রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ সম্ভাবনার কথা উঠে এসেছে।
বিশ্বজুড়ে এআই প্রযুক্তির বাজার দ্রুত সম্প্রসারিত হলেও সাম্প্রতিক সময়ে এ খাতের বিনিয়োগ পরিস্থিতি কিছুটা অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের বড় জয় এবং ডেটা সেন্টার নিয়ে ভোটারদের নেতিবাচক মনোভাব প্রযুক্তি খাতে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, ডেটা সেন্টারের পরিবেশগত প্রভাব, বিদ্যুৎ ব্যবহার এবং স্থানীয় পর্যায়ে এর বিস্তার নিয়ে রাজনৈতিক চাপ বাড়লে ভবিষ্যতে এআই প্রতিষ্ঠানগুলোকে নতুন নিয়ন্ত্রক বাধার মুখে পড়তে হতে পারে। এর প্রভাব পড়তে পারে বিনিয়োগ, অবকাঠামো সম্প্রসারণ এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর বাজারমূল্য নির্ধারণেও।
সব মিলিয়ে ওপেনএআইয়ের নতুন তহবিল সংগ্রহ এআই খাতে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের বড় প্রমাণ হলেও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানের মূল্যায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এ শিল্পের ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ পরিবেশকে আরও জটিল করে তুলছে।