- ০৮ অক্টোবর, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
শহীদ আবরার ফাহাদের হত্যাকাণ্ড দেশের মানুষের মধ্যে আগ্রাসন ও সম্প্রসারণবাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের চেতনাকে আরও জোরালো করেছিল বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, আবরারের আত্মত্যাগ গোটা জাতিকে জাগিয়ে তুলেছিল। দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষার প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না।
বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনের অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের মিলনায়তনে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন রিজভী।
‘বিএনপি সরকারের পররাষ্ট্রনীতি: আধিপত্যবাদ, সম্প্রসারণবাদ ও সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে জাতীয় ঐক্য এবং স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও রাষ্ট্রীয় অখণ্ডতা সুরক্ষার অঙ্গীকার’ শীর্ষক এ সভায় দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, পররাষ্ট্রনীতি এবং আবরার ফাহাদের হত্যাকাণ্ডের প্রভাব নিয়ে কথা বলেন তিনি।
রিজভী বলেন, দেশে ফ্যাসিবাদী শাসন প্রতিষ্ঠার পর ধারাবাহিক আন্দোলনেও প্রত্যাশিত ফল না আসায় মানুষের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছিল। একের পর এক আন্দোলন ব্যর্থ হওয়ায় স্বৈরশাসন থেকে মুক্তির স্বপ্নও অনেকের কাছে অনিশ্চিত হয়ে উঠেছিল। এমন পরিস্থিতিতে আবরার হত্যাকাণ্ড মানুষের মধ্যে নতুন করে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধের অনুভূতি জাগিয়ে তোলে।
আবরার ফাহাদের হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে বিএনপির মহাসচিব বলেন, তাঁর মৃত্যুতে মানুষের মধ্যে যে গভীর শোক ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল, তা জাতীয় চেতনায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছে। অন্যের কষ্ট অনুভব করার মধ্যেই মানবিকতার পরিচয় পাওয়া যায়—লেখক লিও টলস্টয়ের বক্তব্যের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, আবরারের প্রতি গোটা জাতির সহমর্মিতা সেই মানবিক অনুভূতিরই প্রকাশ।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে গুম, খুন, নির্যাতন ও বিচারহীনতার অভিযোগের মধ্যেও মানুষের মধ্যে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা টিকে ছিল। তাঁর দাবি, আবরার ফাহাদের দেশপ্রেমমূলক বক্তব্যের পর তাঁকে হত্যার ঘটনা মানুষের সেই ক্ষোভকে আরও সংগঠিত করে এবং পরবর্তী সময়ে সরকারবিরোধী আন্দোলনেও প্রভাব ফেলে।
আবরার হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে মানুষকে ভয় দেখিয়ে প্রতিবাদ থামানোর চেষ্টা হয়েছিল উল্লেখ করে রিজভী বলেন, কোনো বিষয়ে ভিন্নমত প্রকাশ করলেই জীবন বিপন্ন হতে পারে—এমন বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু এর ফল হয়েছে উল্টো। তাঁর ভাষায়, আবরারের মৃত্যু আগ্রাসী ও সম্প্রসারণবাদী শক্তির বিরুদ্ধে মানুষের প্রতিরোধের চেতনাকে আরও শক্তিশালী করেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে স্বৈরশাসনবিরোধী আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে উল্লেখ করে রিজভী বলেন, ফ্যাসিবাদী ও নাৎসিবাদী শাসনের সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সমাজের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। বাংলাদেশেও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিরোধী মত ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর অতীতে হামলা ও নির্যাতনের অভিযোগ তুলে বিএনপির মহাসচিব বলেন, সংগঠনটির কেন্দ্রীয় ও বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন। আহত নেতাকর্মীদের হাসপাতালে নিতে হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
রিজভী বলেন, প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান ধরে রেখেছেন। তিনি বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আপসহীন রাজনৈতিক ধারার কথা উল্লেখ করে বলেন, নিজেদের পরিচয় ও অবস্থান বজায় রেখেই রাজনীতি করতে হবে।
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে রিজভী দাবি করেন, অবাধ ও সুষ্ঠু পরিবেশে জনগণ জাতীয়তাবাদী শক্তির পক্ষে রায় দিয়েছে। একই সঙ্গে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও রাষ্ট্রীয় অখণ্ডতা রক্ষায় জাতীয় ঐক্যের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক এম জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী এবং আবরার ফাহাদের বাবা মো. বরকত উল্লাহ। কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিবের সভাপতিত্বে সভাটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির।