- ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
চলতি ২০২৬ সালে বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি হিসেবে অপরাধ ও অবৈধ অর্থনৈতিক তৎপরতার বিষয়টি চিহ্নিত করেছে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম (ডব্লিউইএফ)। সংস্থাটির মতে, এসব কর্মকাণ্ড বিনিয়োগ পরিবেশকে দুর্বল করার পাশাপাশি আর্থিক খাতে অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে।
সম্প্রতি প্রকাশিত ডব্লিউইএফের গ্লোবাল রিস্ক রিপোর্ট–২০২৬-এ স্বল্পমেয়াদে বাংলাদেশের জন্য সম্ভাব্য প্রধান ঝুঁকিগুলোর তালিকা তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের জন্য দ্বিতীয় বড় ঝুঁকি হবে ভূ-অর্থনৈতিক উত্তেজনা। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা, শুল্ক আরোপ এবং বৈদেশিক বিনিয়োগে কঠোর যাচাই-বাছাইয়ের মতো বিষয়গুলো অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, তৃতীয় প্রধান ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে মূল্যস্ফীতিকে। দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতি বজায় থাকলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়বে এবং অভ্যন্তরীণ চাহিদা কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হবে।
ডব্লিউইএফের বিশ্লেষণে বাংলাদেশের জন্য চতুর্থ ঝুঁকি হিসেবে উঠে এসেছে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির শ্লথগতি। প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে, পরিস্থিতি অনুকূলে না থাকলে মন্দা বা স্থবিরতার মতো অবস্থাও তৈরি হতে পারে। পঞ্চম ঝুঁকি হিসেবে দেখানো হয়েছে ঋণের চাপ, যেখানে সরকারি ঋণের পাশাপাশি করপোরেট ও পারিবারিক ঋণের বোঝাও অন্তর্ভুক্ত। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশি ও বিদেশি ঋণের পরিমাণ দ্রুত বাড়ায় জাতীয় বাজেটে সুদ পরিশোধ একটি বড় খাতে পরিণত হয়েছে, যা আর্থিক ব্যবস্থাপনায় বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মে থেকে জুলাইয়ের মধ্যে এই জরিপ পরিচালনা করা হয়। বিভিন্ন দেশের কোম্পানির শীর্ষ নির্বাহীদের মতামত নিয়ে আগামী দুই বছরের জন্য মোট ৩৪টি সম্ভাব্য ঝুঁকির মধ্য থেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে।
ডব্লিউইএফ প্রতিবেদনে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গও উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়, রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সাধারণ মানুষের অসন্তোষ এবং উন্নত জীবনের প্রত্যাশা পূরণ না হওয়ায় ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়েছিল। এই বাস্তবতা থেকেই ওই অভ্যুত্থানের জন্ম হয় বলে প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। একই ধরনের পরিস্থিতি শ্রীলঙ্কা ও নেপালেও দেখা গেছে বলে উল্লেখ করেছে সংস্থাটি।
বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে ডব্লিউইএফ আরও সতর্ক করে বলেছে, নতুন প্রতিযোগিতামূলক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় প্রবেশের ফলে ভূ-অর্থনৈতিক সংঘাত ২০২৬ সালের সবচেয়ে বড় বৈশ্বিক ঝুঁকিতে পরিণত হতে পারে। এর পরবর্তী ঝুঁকিগুলোর মধ্যে রয়েছে রাষ্ট্রীয় সংঘাত, চরম আবহাওয়া পরিস্থিতি, সমাজে মেরুকরণ এবং ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিস্তার।
বিশ্লেষকদের মতে, এসব ঝুঁকি মোকাবিলায় নীতি সংস্কার, সুশাসন জোরদার এবং অর্থনৈতিক কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করা জরুরি হয়ে পড়েছে।