- ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর জানিয়েছেন, ২০ কোটি টাকার বেশি অঙ্কের সব ঋণ নতুন করে খতিয়ে দেখা হবে। এসব ঋণের বিপরীতে যথাযথ জামানত আছে কি না তা যাচাই করা হবে। কোথাও অনিয়ম বা ঘাটতি পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্মকর্তা ও পরিচালনা পর্ষদকে জবাবদিহির আওতায় আনা হবে।
বৃহস্পতিবার রাজধানীতে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) আয়োজিত ‘ব্যাংকিং খাত সংস্কার: চ্যালেঞ্জ উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
গভর্নর বলেন, কার্যকর সংস্কারের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বাধীনতা অত্যন্ত জরুরি। শক্তিশালী ও সৎ নেতৃত্ব নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়নের প্রস্তাব সরকারের কাছে দেওয়া হয়েছে। সরকার এই আইন পাস করলে ব্যাংক খাত সংস্কারে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ প্রকাশ করেন।
তিনি আরও জানান, ইতোমধ্যে পাঁচটি ব্যাংক একীভূত করার প্রক্রিয়া চলছে এবং নয়টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান অবসায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের সাধারণ আমানতকারীরা তাঁদের জমাকৃত অর্থ পুরোপুরি ফেরত পাবেন, তবে প্রাতিষ্ঠানিক আমানতকারীরা আংশিক অর্থ ফেরত পাবেন।
সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন বলেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ব্যাংক খাত সংস্কারের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ। রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে ব্যাংকিং খাতকে শৃঙ্খলিত ও শক্তিশালী করার বিষয়ে সুস্পষ্ট পরিকল্পনা ও প্রতিশ্রুতি তুলে ধরা।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক নেতৃত্বকে পরিষ্কারভাবে জানাতে হবে ব্যাংক খাত আগের মতো প্রভাবশালী গোষ্ঠীর স্বার্থে ব্যবহৃত হবে, নাকি জনগণের কল্যাণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের অর্থায়নে ভূমিকা রাখবে। তাঁর মতে, অর্থনৈতিক নীতি শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক বাস্তবতার মধ্য দিয়েই কার্যকর হয়, আর সেই বাস্তবতা সঠিক না হলে সাধারণ মানুষ উপকৃত হয় না।
অন্যদিকে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, ২০১৭ সালে ইসলামী ব্যাংক দখলের ঘটনার পর থেকেই ব্যাংক খাত আরও দুর্বল হয়ে পড়ে। এরই ধারাবাহিকতায় খেলাপি ঋণের হার এখন প্রায় ৩৬ শতাংশে পৌঁছেছে। তিনি বলেন, বর্তমান সংস্কার উদ্যোগকে ভবিষ্যতে রাজনৈতিক সরকার কতটা এগিয়ে নেবে, সেটিই হবে মূল বিবেচ্য বিষয়।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন ইআরএফ সভাপতি দৌলত আক্তার এবং সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম।