Monday, January 19, 2026

জাতীয় পার্টিতে রাঙ্গার প্রত্যাবর্তন ঘিরে রংপুরে বিতর্ক ও বিভক্তি


ছবিঃ রংপুর-১ আসনে জাতীয় পার্টির মনোনয়ন সংগ্রহ করেছেন মসিউর রহমান।‌‌ (সংগৃহীত)

PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর জাতীয় পার্টির সাবেক মহাসচিব মসিউর রহমান (রাঙ্গা) হঠাৎ দলে ফেরায় রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে আলোচনা ও সমালোচনা। রংপুরে দলের কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতৃত্বের একটি অংশ তাঁকে স্বাগত জানালেও, তাঁর নির্বাচনী এলাকা গঙ্গাচড়ায় জাতীয় পার্টির বড় একটি অংশ প্রকাশ্যে বিরোধিতায় নেমেছে।

গঙ্গাচড়ার নেতাদের অভিযোগ, রাঙ্গা স্থানীয় নন এবং অতীতে তাঁকে ও অন্য এক প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়ায় তৃণমূলে ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল। তাঁদের মতে, এলাকার মানুষ এবার স্থানীয় প্রার্থীই দেখতে চান। এ অবস্থায় হঠাৎ রাঙ্গার প্রত্যাবর্তনে তারা অস্বস্তিতে পড়েছেন।

এদিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরাও রাঙ্গার সক্রিয় রাজনীতিতে ফেরাকে ভালো চোখে দেখছেন না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁকে ‘আওয়ামী লীগের দোসর’ আখ্যা দিয়ে রংপুরে প্রতিহতের ডাক দেওয়া হয়েছে।

নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মসিউর রহমান বলেন, জাতীয় পার্টির রাজনীতি করেই তিনি এত দূর এগিয়েছেন, তাই দলেই ফিরেছেন। বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় তাঁকে আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ বলা হলে সেটিকে তিনি অস্বাভাবিক মনে করেন না বলেও মন্তব্য করেন।

রাজনৈতিক জীবনের ধারাবাহিকতায় ২০১৪ সালে জাতীয় পার্টির মনোনয়নে রংপুর-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন রাঙ্গা। পরে তিনি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৮ সালের নির্বাচনের পর জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ এবং একই বছর ডিসেম্বর থেকে ২০২০ সালের জুলাই পর্যন্ত জাতীয় পার্টির মহাসচিব ছিলেন। তবে দলীয় অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের জেরে ২০২০ সালে তাঁকে সব পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও পরাজিত হন। পরে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দীর্ঘদিন প্রকাশ্যে সক্রিয় ছিলেন না তিনি। সাম্প্রতিক সময়ে আবার দলীয় নেতৃত্বের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়ে জাতীয় পার্টিতে ফেরার ঘোষণা দেন।

গতকাল গুলশানে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভায় চেয়ারম্যান জি এম কাদের ও মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারীর সঙ্গে মঞ্চে দেখা যায় মসিউর রহমানকে। এতে তাঁর প্রত্যাবর্তন কার্যত আনুষ্ঠানিক রূপ পায়।

তবে গঙ্গাচড়ার স্থানীয় নেতারা জানিয়েছেন, তাঁরা অন্য প্রার্থীকে সামনে রেখে কাজ করছেন এবং রাঙ্গাকে ঘিরে আপত্তি বজায় থাকবে। এ বিষয়ে মসিউর রহমান বলেন, দলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিরোধিতা কমে যাবে বলে তিনি আশা করেন।

সব মিলিয়ে জাতীয় পার্টিতে রাঙ্গার ফিরে আসা রংপুরের রাজনীতিতে নতুন করে বিভাজন ও উত্তাপ তৈরি করেছে, যা আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের আগে দলটির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন