Monday, May 11, 2026

যুক্তরাষ্ট্রে বিশাল এআই ডেটা সেন্টার ঘিরে বিতর্ক, পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কায় ক্ষোভ


ছবিঃ এআই ডেটা সেন্টার প্রকল্পকে ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ও প্রতিবাদ দেখা দিয়েছে (সংগৃহীত)

স্টাফ রিপোর্ট: PNN 

যুক্তরাষ্ট্রের উটাহ অঙ্গরাজ্যে প্রস্তাবিত একটি বিশাল এআই ডেটা সেন্টার প্রকল্পকে ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ও প্রতিবাদ দেখা দিয়েছে। পরিবেশের ওপর সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব, অতিরিক্ত জ্বালানি ব্যবহার এবং স্থানীয় জীববৈচিত্র্যের ক্ষতির আশঙ্কায় প্রকল্পটির বিরুদ্ধে গণভোট আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছেন এলাকাবাসী।

বক্স এল্ডার কাউন্টি–এর কাউন্টি কমিশন সম্প্রতি প্রকল্পটির অনুমোদন দিলেও অনেক বাসিন্দা অভিযোগ করেছেন, যথেষ্ট জনপর্যালোচনা ছাড়াই দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এখন স্থানীয় ভোটারদের একটি অংশ নভেম্বরের নির্বাচনে এ অনুমোদন বাতিলের দাবিতে গণভোটের আবেদন করেছে। গণভোট আয়োজনের জন্য তাদের পাঁচ হাজারের বেশি স্বাক্ষর সংগ্রহ করতে হবে।

প্রস্তাবিত “স্ট্রাটোস ডেটা সেন্টার প্রকল্প” বাস্তবায়িত হলে সেখানে প্রায় ৪০ হাজার একর জমির ওপর ৯ গিগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন এআই ডেটা সেন্টার ও সেটি পরিচালনার জন্য একটি প্রাকৃতিক গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হবে। প্রকল্পটির সঙ্গে যুক্ত আছেন Kevin O'Learyসহ একাধিক বিনিয়োগকারী।

প্রকল্প সমর্থকদের দাবি, এটি স্থানীয় অর্থনীতিকে চাঙা করবে, হাজার হাজার কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও জাতীয় নিরাপত্তা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, নির্মাণ পর্যায়ে প্রায় ১০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে এবং স্থায়ীভাবে কাজ পাবে প্রায় দুই হাজার ব্যক্তি।

তবে স্থানীয় পরিবেশবাদী ও বাসিন্দাদের আশঙ্কা, এত বড় ডেটা সেন্টারের বিদ্যুৎ ও পানির চাহিদা এলাকার পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে। বিশেষ করে সংকুচিত হয়ে আসা গ্রেট সল্ট লেক–এর ওপর এর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এলাকাটি পরিযায়ী পাখির গুরুত্বপূর্ণ আবাসস্থল হিসেবেও পরিচিত।

স্থানীয় পরিবেশকর্মী ক্যারোলিন গ্লাইচ বলেন, প্রযুক্তির উন্নয়ন প্রয়োজন হলেও বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতার অভাব উদ্বেগ তৈরি করছে। তার মতে, প্রকল্পের পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে স্বাধীন সমীক্ষা প্রকাশ করা জরুরি।

আরেক বাসিন্দা সারাহ ইনস্কিপ-ইয়ং বলেন, প্রকল্পটির আকার এবং জনপর্যালোচনার স্বচ্ছতার মধ্যে বড় ধরনের অসামঞ্জস্য রয়েছে। তার ভাষায়, পুরো অঙ্গরাজ্যের ভবিষ্যৎ পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

অন্যদিকে প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা দাবি করেছেন, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে পানির ব্যবহার কমানো হবে এবং বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনাও পরিবেশবান্ধব করার চেষ্টা থাকবে। এছাড়া ফেডারেল ও অঙ্গরাজ্য পর্যায়ের পরিবেশবিষয়ক সব নিয়ম মেনে প্রকল্প পরিচালনা করা হবে বলেও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

এদিকে কাউন্টি কমিশনের বৈঠকে শত শত মানুষ উপস্থিত হয়ে প্রতিবাদ জানান। কেউ কেউ “স্ট্রিমিংয়ের চেয়ে স্ট্রিমই ভালো” ও “আমাদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করো না” লেখা প্ল্যাকার্ড বহন করেন। উত্তপ্ত পরিস্থিতির একপর্যায়ে কমিশনারদের বৈঠককক্ষ ছেড়ে আলাদা কক্ষে গিয়ে অনলাইনে ভোটাভুটি সম্পন্ন করতে হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তি বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ডেটা সেন্টার নির্মাণ বাড়ছে। একইসঙ্গে পরিবেশ ও জনস্বার্থের প্রশ্নে এসব প্রকল্পের বিরুদ্ধে স্থানীয় প্রতিরোধও জোরালো হয়ে উঠছে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন