- ১৫ জুন, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা প্রশমিত হওয়ার ইঙ্গিত এবং সম্ভাব্য শান্তিচুক্তির ঘোষণায় বিশ্ব অর্থনীতিতে ইতিবাচক সাড়া দেখা দিয়েছে। সংঘাত কমার আশায় বৈশ্বিক শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বগতি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামে উল্লেখযোগ্য পতন লক্ষ্য করা গেছে।
সোমবার এশিয়ার প্রধান শেয়ারবাজারগুলোতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আশাবাদী মনোভাব দেখা যায়। জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান, অস্ট্রেলিয়া ও হংকংয়ের শেয়ারসূচকগুলো দিনের শুরুতেই শক্তিশালী অবস্থান নেয়। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমে আসার সম্ভাবনাই বাজারে এই ইতিবাচক প্রবণতার অন্যতম কারণ।
মার্কিন বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে। ওয়াল স্ট্রিটে নিয়মিত লেনদেন শুরু হওয়ার আগেই প্রধান সূচকগুলোর ফিউচার ঊর্ধ্বমুখী অবস্থানে ছিল। প্রযুক্তি ও জ্বালানি খাতের শেয়ারগুলোতে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়তে দেখা গেছে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সম্ভাব্য শান্তিচুক্তি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনছে। বিশেষ করে বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা কমার প্রত্যাশা বাজারকে ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত করছে।
এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দামও কমেছে। মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় তেল সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ কিছুটা কমেছে। ফলে বাজারে দাম নিম্নমুখী হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, তেলের দাম কমে এলে বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতির চাপও কিছুটা হ্রাস পেতে পারে। এতে বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওপর সুদের হার বাড়ানোর চাপও কমবে।
তবে নৌপরিবহন খাত সংশ্লিষ্টরা সতর্ক করে বলেছেন, সংঘাত কমার ঘোষণা এলেও বাস্তবে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে। সাম্প্রতিক উত্তেজনার কারণে বহু জাহাজ নির্ধারিত রুটে চলাচল ব্যাহত হয়েছে এবং সরবরাহ শৃঙ্খলেও প্রভাব পড়েছে।
নৌপরিবহন বিশেষজ্ঞদের ধারণা, সমুদ্রপথে নিরাপত্তা ঝুঁকি দূর করা, আটকে থাকা জাহাজগুলোর চলাচল স্বাভাবিক করা এবং বীমা খাতের আস্থা ফিরিয়ে আনতে কয়েক মাস থেকে এক বছরেরও বেশি সময় লাগতে পারে।
কূটনৈতিক সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি আনুষ্ঠানিক শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের প্রস্তুতি চলছে। চুক্তিতে আঞ্চলিক উত্তেজনা হ্রাস, জ্বালানি বাণিজ্য সহজীকরণ এবং কিছু অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে বলে আলোচনা চলছে।
বিশ্ব অর্থনীতির পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, শান্তি প্রক্রিয়া সফল হলে শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বৈশ্বিক বাণিজ্য, জ্বালানি বাজার এবং বিনিয়োগ পরিবেশেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।