- ০১ জুন, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN
লেবাননে চলমান সামরিক উত্তেজনা কমাতে নতুন একটি প্রস্তাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আল জাজিরাকে দেওয়া এক মার্কিন কর্মকর্তার তথ্যে জানা গেছে, এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে পৃথকভাবে আলোচনা করেছেন।
প্রস্তাবটি এমন এক সময় সামনে এলো, যখন দক্ষিণ লেবাননে লিটানি নদীর উত্তরে মধ্যযুগীয় বিউফোর্ট ক্যাসেল দখল করে গভীর অগ্রযাত্রা চালিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী।
মার্কিন ওই কর্মকর্তা জানান, প্রস্তাবিত ‘রোডম্যাপ’-এর আওতায় হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সব ধরনের হামলা বন্ধ করবে এবং এর বিনিময়ে ইসরায়েল বৈরুতসহ লেবাননের অভ্যন্তরে নতুন করে বড় ধরনের হামলা থেকে বিরত থাকবে।
যুক্তরাষ্ট্রের মতে, এই পরিকল্পনার লক্ষ্য ধাপে ধাপে উত্তেজনা কমিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ ও স্থায়ী যুদ্ধবিরতির পরিবেশ তৈরি করা।
তবে একই সঙ্গে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু লেবাননের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান আরও বিস্তারের ঘোষণা দেন। তিনি দক্ষিণ বৈরুতের দাহিয়েহ এলাকায় হামলার নির্দেশ দেন, যেটিকে হিজবুল্লাহর শক্ত ঘাঁটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
বিউফোর্ট ক্যাসেল দখলের পর এক ভিডিও বার্তায় নেতানিয়াহু বলেন, ইসরায়েল এখন আগের চেয়ে বেশি শক্তিশালী এবং ঐক্যবদ্ধ অবস্থানে রয়েছে।
তিনি দাবি করেন, হিজবুল্লাহর নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকায় ইসরায়েলি সেনাদের অবস্থান আরও বিস্তৃত করা হবে এবং বিউফোর্ট দখলকে তিনি “কৌশলগত মোড় পরিবর্তন” হিসেবে উল্লেখ করেন।
এই দুর্গটি ২০০০ সাল পর্যন্ত দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের দীর্ঘ সামরিক উপস্থিতির সময় গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল।
সাম্প্রতিক সংঘাতে লেবাননে মানবিক পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নিয়েছে। মার্চের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ১০ লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে বলে জানা গেছে।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, একই সময়ে ইসরায়েলি হামলায় ৩,৪০০-এর বেশি মানুষ নিহত এবং ১০ হাজারের বেশি আহত হয়েছে।
একইভাবে শুধু একদিনেই দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত এবং ৩৫ জন আহত হয়।
গত এপ্রিলের মাঝামাঝি ঘোষিত যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও বাস্তবে তা মানা হয়নি বলে উভয় পক্ষই একে অপরকে দোষারোপ করছে। ইসরায়েল প্রায় প্রতিদিনই যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, চলমান পরিস্থিতি যুদ্ধকে আরও বিস্তৃত আকারে নিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি করছে।
ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের তীব্রতা নিয়ে বিভিন্ন দেশ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ বলেন, এই পরিস্থিতিকে কোনোভাবেই ন্যায্যতা দেওয়া যায় না।
যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়ভেট কুপার ইসরায়েলকে লেবাননে সামরিক অভিযান বন্ধ করার আহ্বান জানান।
কাতার এই হামলাকে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন এবং বড় ধরনের উত্তেজনা বৃদ্ধি হিসেবে অভিহিত করেছে।
মিসরও লেবাননের প্রতি সংহতি জানিয়ে ইসরায়েলি বাহিনীকে লেবানন থেকে সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগের মধ্যেও লেবানন-ইসরায়েল সীমান্তে সহিংসতা অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি অনিশ্চিত রয়ে গেছে। কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোলা থাকলেও মাটিতে সংঘাত আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে।