- ০১ জুন, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
নব্বইয়ের দশকের আলোচিত বলিউড অভিনেত্রী পূজা ভাট আবারও আলোচনায় এসেছেন তাঁর একটি বডি পেইন্ট ফটোশুট নিয়ে দেওয়া সাম্প্রতিক মন্তব্যে। প্রায় তিন দশকের পুরোনো সেই ম্যাগাজিন কভার নিয়ে অভিনেত্রী জানিয়েছেন, কাজটির উদ্দেশ্য কখনোই বিতর্ক সৃষ্টি করা ছিল না, বরং এটি ছিল একটি নান্দনিক শিল্পধারার অংশ।
সেই সময় একটি জনপ্রিয় ম্যাগাজিনের জন্য করা এই ফটোশুটটি অনুপ্রাণিত ছিল হলিউড তারকা ডেমি মুর-এর বিখ্যাত ভ্যানিটি ফেয়ার প্রচ্ছদ থেকে। প্রকাশের পর এটি ব্যাপক আলোচনার পাশাপাশি সমালোচনারও জন্ম দেয়।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে পূজা ভাট বলেন, সাংবাদিক দিনেশ রাহেজা তাঁকে ডেমি মুরের কভারটি দেখিয়েছিলেন এবং একই ধরনের একটি কাজের প্রস্তাব দেন। তিনি জানান, ধারণাটি প্রথম দেখাতেই তাঁর ভালো লেগেছিল এবং তিনি সঙ্গে সঙ্গেই রাজি হয়ে যান।
ফটোশুটটি ফ্যাশন ডিজাইনার আনা সিংয়ের সহযোগিতায় সম্পন্ন হয় বলে জানান তিনি। শুটিং হয়েছিল অত্যন্ত স্বল্প সময়ের মধ্যে এবং ব্যস্ত শিডিউলের মাঝেই কাজটি শেষ করা হয়।
ফটোশুট প্রকাশের পর জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। অনেকেই এটিকে সাহসী উদ্যোগ হিসেবে দেখলেও অনেকে সমালোচনা করেন। তবে পূজা ভাট স্পষ্ট করে বলেন, তিনি ওই ছবিতে সম্পূর্ণ নগ্ন ছিলেন না এবং অন্তর্বাস পরেই শুটিং করেছিলেন। তিনি বলেন, ডেমি মুরের মূল ছবির সঙ্গে অনেকেই ভুলভাবে তুলনা করেছেন এবং সেটিকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
অভিনেত্রী আরও বলেন, সেই সময়ে আজকের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা ভাইরাল সংস্কৃতি ছিল না। কাজগুলো হতো স্বাভাবিক সৃজনশীল প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে। কখনো তা প্রশংসিত হতো, কখনো বিতর্ক তৈরি করত। ফটোগ্রাফার জগদীশ মালী-এর তত্ত্বাবধানে এই শুট সম্পন্ন হয়েছিল বলে জানা যায়।
তিন দশকের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এই কভারটি এখনো আলোচনায় আসে বলে বিস্ময় প্রকাশ করেন পূজা ভাট। তাঁর মতে, সময়ের ব্যবধানে মানুষ এখন বিষয়টিকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করছে এবং অনেক ক্ষেত্রে ভুল তথ্যও ছড়িয়ে পড়ছে।
তিনি বলেন, এটি কোনো প্রচারণামূলক বা বিতর্ক সৃষ্টির পরিকল্পনা ছিল না, বরং নিজের বিশ্বাস ও শিল্পবোধ থেকে নেওয়া একটি সিদ্ধান্ত ছিল।
নব্বইয়ের দশকের সাহসী এই ফটোশুটকে ঘিরে নতুন করে আলোচনার মধ্য দিয়ে আবারও সামনে এসেছে বলিউডের সেই সময়ের সংস্কৃতি ও শিল্পচর্চার ধারা। পূজা ভাটের বক্তব্য অনুযায়ী, ঘটনাটি ছিল সম্পূর্ণভাবে শিল্পনির্ভর একটি উদ্যোগ, যা পরবর্তীতে ভুল ব্যাখ্যার কারণে বিতর্কে রূপ নেয়।