- ০৪ জুলাই, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
শক্তিশালী পারফরম্যান্স, দীর্ঘ রেঞ্জ, আধুনিক প্রযুক্তি এবং আরামদায়ক ড্রাইভিং অভিজ্ঞতা সব মিলিয়ে বৈদ্যুতিক পিকআপের বাজারে শেভ্রোলেট সিলভারাডো ইভিকে অন্যতম সম্ভাবনাময় মডেল হিসেবে দেখছেন অনেক বিশ্লেষক। তবে বাস্তব চিত্র বলছে ভিন্ন কথা। প্রশংসা পেলেও বিক্রির হিসাবে এখনো প্রত্যাশার অনেক নিচে রয়েছে জেনারেল মোটরসের (জিএম) এই বৈদ্যুতিক ট্রাক।
সাম্প্রতিক এক পর্যালোচনায় দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা মিলিয়ে গত বছর প্রায় ১৪ হাজার ইউনিট সিলভারাডো ইভি বিক্রি হয়েছে। অথচ একই সময়ে জ্বালানিচালিত সিলভারাডোর বিক্রি ছিল তার কয়েক গুণ বেশি। ফলে প্রশ্ন উঠেছে এত সক্ষম একটি বৈদ্যুতিক পিকআপ কেন এখনো মূলধারার ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে পারছে না?
ড্রাইভিং অভিজ্ঞতার দিক থেকে সিলভারাডো ইভি প্রচলিত ধারণা বদলে দিয়েছে। বিশাল আকৃতির ট্রাক হলেও এটি অনেকটা যাত্রীবাহী গাড়ির মতোই মসৃণভাবে চলতে পারে। চার চাকার স্টিয়ারিং প্রযুক্তির কারণে বড় আকারের এই যানও পার্কিং কিংবা সংকীর্ণ রাস্তায় তুলনামূলক সহজে নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
গাড়িটির অন্যতম বড় আকর্ষণ হলো ৪০০ মাইলের বেশি চলার সক্ষমতা। পাশাপাশি বড় আকারের কার্গো বেড, সামনের প্রশস্ত ফ্রাঙ্ক, আরামদায়ক কেবিন এবং জরুরি পরিস্থিতিতে বাড়িতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করার সুবিধা এটিকে অন্য অনেক বৈদ্যুতিক পিকআপের তুলনায় এগিয়ে রেখেছে।
প্রযুক্তির দিক থেকেও সিলভারাডো ইভি বেশ সমৃদ্ধ। গুগলভিত্তিক ইনফোটেইনমেন্ট সিস্টেম দ্রুত সাড়া দেয় এবং ভয়েস কমান্ড কার্যকরভাবে কাজ করে। এছাড়া জিএমের ‘সুপার ক্রুজ’ হ্যান্ডস-ফ্রি ড্রাইভিং প্রযুক্তি দীর্ঘ ভ্রমণে চালকের চাপ অনেকটাই কমিয়ে দেয়। যদিও কিছু পরিস্থিতিতে লেন ধরে রাখা বা হঠাৎ সামনে আসা যানবাহন শনাক্ত করার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতারও প্রমাণ মিলেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, শুধু দামই এর প্রধান কারণ নয়। পূর্ণাঙ্গ আকারের পিকআপের ক্রেতারা সাধারণত উচ্চমূল্যের গাড়ি কিনতে অভ্যস্ত। বরং বৈদ্যুতিক গাড়ির চার্জিং অবকাঠামো, দীর্ঘ ভ্রমণে রেঞ্জ নিয়ে উদ্বেগ এবং প্রচলিত ইঞ্জিনচালিত ট্রাক থেকে সরে আসতে অনীহাই বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আরেকটি আলোচিত বিষয় হলো টোয়িং রেঞ্জ। ভারী ট্রেলার টানার সময় বৈদ্যুতিক পিকআপের কার্যকর দূরত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। যদিও বাজার বিশ্লেষকদের তথ্য বলছে, অধিকাংশ ফুল-সাইজ ট্রাক মালিক বছরে একবার বা তারও কম ট্রেলার ব্যবহার করেন। ফলে এই সীমাবদ্ধতা সব ক্রেতার জন্য সমান গুরুত্বপূর্ণ নয়।
এদিকে জিএম ভবিষ্যতের জন্য নতুন পরিকল্পনাও করছে। প্রতিষ্ঠানটি লিথিয়াম-ম্যাঙ্গানিজ-সমৃদ্ধ (LMR) নতুন প্রজন্মের ব্যাটারি প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে, যা উৎপাদন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে পারে। পরিকল্পনা অনুযায়ী এই প্রযুক্তি বাণিজ্যিকভাবে চালু হলে একটি সিলভারাডো ইভির উৎপাদন খরচ প্রায় ৬ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত কমতে পারে। এর ফলে বৈদ্যুতিক ও জ্বালানিচালিত সংস্করণের দামের ব্যবধানও অনেকটা কমে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রযুক্তিগত সক্ষমতার দিক থেকে সিলভারাডো ইভি ইতোমধ্যেই শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। তবে বাজারে বড় সাফল্য পেতে হলে দাম আরও প্রতিযোগিতামূলক করা, ওজন কমানো এবং সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে বৈদ্যুতিক পিকআপ নিয়ে আস্থার ঘাটতি দূর করাই হবে জিএমের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।