- ২৮ এপ্রিল, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
দেশে ভ্যাট ফাঁকি রোধ এবং করের আওতা বাড়াতে প্রতিটি পণ্যে কিউআর কোড বা আধুনিক ডিজিটাল ট্র্যাকিং ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা করছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। সংস্থাটির চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান জানিয়েছেন, ধাপে ধাপে বিভিন্ন পণ্যে এই প্রযুক্তি চালু করা হবে।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এনবিআর ভবনে ২০২৬–২০২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবনা উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন।
এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, প্রাথমিকভাবে তামাকজাত পণ্য ও বোতলজাত পানীয়তে কিউআর কোড যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। উৎপাদন পর্যায় থেকেই পণ্যের তথ্য এনবিআরের ডাটাবেজে যুক্ত করা হলে বাজারে সহজেই যাচাই করা যাবে সেটি বৈধভাবে উৎপাদিত হয়েছে কি না এবং যথাযথ ভ্যাট পরিশোধ করা হয়েছে কিনা।
তিনি আরও জানান, এই ব্যবস্থা চালু হলে সাধারণ ভোক্তারাও মোবাইল ফোনের মাধ্যমে কোড স্ক্যান করে পণ্যের তথ্য জানতে পারবেন। এতে বাজারে স্বচ্ছতা বাড়বে এবং কর ফাঁকি কমানো সম্ভব হবে বলে মনে করছে সংস্থাটি।
কোনো অনিয়ম ধরা পড়লে তাৎক্ষণিকভাবে তথ্য দেওয়ার জন্য হুইসেল ব্লোয়ারদের উৎসাহিত করার কথাও জানান তিনি। একই সঙ্গে অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দেন।
এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, তামাক খাতে রাজস্ব ফাঁকির ঝুঁকি বেশি হওয়ায় প্রথমে এই খাতেই উদ্যোগটি বাস্তবায়নের কথা ভাবা হচ্ছে। পাশাপাশি বিদ্যমান ব্যান্ডরোল ব্যবস্থায়ও পরিবর্তন আনা হবে, যাতে উৎপাদন থেকে বিক্রি পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া নজরদারির আওতায় আনা যায়।
পরবর্তীতে সাবান, শ্যাম্পু, টিস্যুসহ অন্যান্য ভোক্তা পণ্যেও একই ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এতে কর আদায়ে বৈষম্য কমবে এবং সৎ ব্যবসায়ীরা উপকৃত হবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরির ওপর গুরুত্ব দিয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, কর প্রশাসনের লক্ষ্য হওয়া উচিত ব্যবসাকে সহায়তা করা, বাধাগ্রস্ত করা নয়। অতিরিক্ত জরিমানা ও জটিলতা কমিয়ে একটি সহজ ও স্বচ্ছ কর ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপরও জোর দেন তিনি।
তিনি আরও জানান, কর ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা বাড়াতে ইতোমধ্যে অডিট নির্বাচনে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতি চালু করা হয়েছে, যা ভবিষ্যতে রাজস্ব ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর করবে।