- ২৫ এপ্রিল, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যে চাপ ক্রমেই বাড়ছে। রপ্তানি আয় ধারাবাহিকভাবে কমতে থাকলেও একই সময়ে আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বাণিজ্য ঘাটতি দ্রুত বিস্তৃত হচ্ছে। এতে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনায় নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশ ব্যাংক-এর সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরের প্রথম আট মাসে দেশের পণ্য বাণিজ্যে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৬.৯১ বিলিয়ন ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ১৩.৭১ বিলিয়ন ডলার। এক বছরের ব্যবধানে ঘাটতি বেড়েছে ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি।
রপ্তানি খাতে দুর্বলতা এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো-এর তথ্য বলছে, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত সময়ে পণ্য রপ্তানি কমেছে প্রায় ৪.৮৫ শতাংশ। বিশেষ করে তৈরি পোশাক, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল এবং পাটখাতে নেতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে।
মাসভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, জুলাইয়ে কিছুটা প্রবৃদ্ধি থাকলেও পরবর্তী মাসগুলোতে রপ্তানি ধারাবাহিকভাবে কমেছে। মার্চ মাসে রপ্তানি আয় প্রায় ১৮ শতাংশ কমে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে ওঠে।
অন্যদিকে আমদানি ব্যয় বেড়েই চলেছে। অর্থবছরের প্রথম আট মাসে আমদানি বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪৬.১৪ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৫.৬ শতাংশ বেশি। জ্বালানি ও খাদ্যপণ্যের আন্তর্জাতিক মূল্যবৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক অস্থিরতা এই বৃদ্ধির প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন অঞ্চলে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, যা আমদানি ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে। এর ফলে বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ বাড়ছে।
তবে প্রবাসী আয় কিছুটা স্বস্তি দিচ্ছে। চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময়ে রেমিট্যান্স এসেছে প্রায় ২২.৪৫ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বেশি। এতে চলতি হিসাবের ঘাটতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, রপ্তানি প্রত্যাশিত হারে না বাড়া এবং আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি—এই দুইয়ের সমন্বিত প্রভাবেই বাণিজ্য ঘাটতি দ্রুত বাড়ছে। দীর্ঘমেয়াদে এটি বৈদেশিক খাতের স্থিতিশীলতার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় রপ্তানি খাতে বৈচিত্র্য আনা, নতুন বাজার খোঁজা, জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরতা কমানো এবং আমদানি ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। অন্যথায় বৈশ্বিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে এই চাপ আরও তীব্র হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।