- ২৮ এপ্রিল, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
দেশের আর্থিক খাতের বর্তমান সংকটের পেছনে অতিরিক্ত রাজনীতিকরণকে দায়ী করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, পূর্ববর্তী সময়ে আর্থিক ব্যবস্থাপনায় রাজনৈতিক প্রভাব বাড়ার ফলে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং অনেক ক্ষেত্রে কার্যত পুঁজি সংকটে ভুগছে।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) বিকেলে সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ)-এর সঙ্গে প্রাক-বাজেট আলোচনায় এসব কথা বলেন তিনি।
অর্থমন্ত্রী জানান, ব্যাংকিং খাতে সুশাসনের ঘাটতি ও অনিয়মের কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান পর্যাপ্ত মূলধন ধরে রাখতে পারেনি। একই সঙ্গে শেয়ারবাজারে অনিয়ন্ত্রিত কার্যক্রম অর্থনীতিকে আরও দুর্বল করেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, বর্তমানে ব্যাংকগুলো ‘আন্ডার ক্যাপিটালাইজড’ অবস্থায় রয়েছে। অন্যদিকে বেসরকারি খাতও বিভিন্ন অর্থনৈতিক চাপে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মুদ্রার অবমূল্যায়ন ও উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে ব্যবসায়ীদের কার্যকর মূলধন কমে গেছে, ফলে তাদের পক্ষে স্বাভাবিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।
তবে এই সংকট মোকাবিলায় সরকারের সীমাবদ্ধতার কথাও স্বীকার করেন তিনি। অর্থমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রীয় তহবিল দিয়ে সব ব্যাংককে পুনঃমূলধনীকরণ করা সম্ভব নয়। কারণ সরকার একটি দুর্বল অর্থনীতি উত্তরাধিকার হিসেবে পেয়েছে, যা পুনরুদ্ধার করা সহজ নয়।
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতানির্ভর অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে এসে একটি প্রতিযোগিতামূলক ও সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। অতীতে সীমিত কিছু গোষ্ঠীর হাতে সম্পদ কেন্দ্রীভূত হওয়ায় অর্থনৈতিক ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
অর্থমন্ত্রী জানান, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে সেবা পৌঁছে দিতে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডসহ বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর মাধ্যমে দেশের জনসংখ্যাগত সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।