- ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
ঢাকা–৮ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের পর রাজনীতিক ও ভোটারদের মধ্যে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তা কেটে যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন। তাঁর ভাষায়, নির্বাচন যত কাছে আসবে, আতঙ্ক তত কমবে।
সোমবার সকালে রাজধানীর তেজগাঁও মেইল প্রসেসিং সেন্টারে পোস্টাল ব্যালট প্রস্তুতির কাজ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি বলেন, ভোটের পরিবেশ নিয়ে নির্বাচন কমিশন আত্মবিশ্বাসী এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থাকতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরদিন ১২ ডিসেম্বর ঢাকায় প্রকাশ্যে গুলিবিদ্ধ হন ঢাকা–৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলেও কয়েক দিনের মধ্যে তিনি মারা যান। এই হত্যাকাণ্ডের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে নিরাপত্তা নিয়ে উৎকণ্ঠা বাড়ে।
নিরাপত্তা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে সিইসি বলেন, নির্বাচন সামনে রেখে যেন কেউ ভয়ভীতির মধ্যে না থাকেন, সে বিষয়টি সরকার ও সংশ্লিষ্ট বাহিনীগুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। ভোটারদের মাঝেও আতঙ্ক ছড়াচ্ছে কি না এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, নির্বাচন উৎসবমুখর পরিবেশেই অনুষ্ঠিত হবে বলে কমিশন আশাবাদী।
এদিকে হাদি হত্যার পর অন্তত ১৫ জন রাজনীতিবিদ সরকারের কাছে বাড়তি নিরাপত্তা চেয়ে আবেদন করেছেন বলে জানা গেছে। কেউ পুলিশি পাহারা, কেউ গানম্যান, আবার কেউ আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স চেয়েছেন।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে রোববার নির্বাচন কমিশন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে একটি বৈঠক করেছে। ওই বৈঠকে নির্বাচনকালীন সময়ে সব বাহিনীকে আরও কঠোর ভূমিকা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।
পোস্টাল ভোট প্রসঙ্গে সিইসি জানান, নির্বাচনী এলাকার বাইরে কর্মরত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং কারাবন্দিদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে ডাকযোগে ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পোস্টাল বিভাগ ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় অনলাইন ও সরাসরি এই দুই পদ্ধতিতে নিবন্ধনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত প্রায় দেড় লাখ ভোটার নিবন্ধন করেছেন বলেও জানান তিনি।
পোস্টাল ভোট ব্যবস্থাকে ভবিষ্যতের জন্য একটি কার্যকর মডেল হিসেবে উল্লেখ করে সিইসি বলেন, শুরুতে কিছু কারিগরি ও নিরাপত্তাজনিত চ্যালেঞ্জ থাকলেও সেগুলো ধীরে ধীরে সমাধান করা হয়েছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই ব্যবস্থার আরও উন্নয়ন হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।