- ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
ভারতের স্থানীয় ভাষা ও ব্যবহারকারীদের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি উন্নয়নে কাজ করা স্টার্টআপ Sarvam তাদের নতুন চ্যাট অ্যাপ ‘ইন্ডাস’ চালু করেছে। ওয়েব ও মোবাইল প্ল্যাটফর্মে উন্মুক্ত হওয়া এই অ্যাপের মাধ্যমে সংস্থাটি বৈশ্বিক জায়ান্টদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নামল।
ভারত বর্তমানে জেনারেটিভ এআই ব্যবহারের অন্যতম বড় বাজারে পরিণত হয়েছে। OpenAI-এর প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যান সম্প্রতি জানিয়েছেন, ভারতে ChatGPT–এর সাপ্তাহিক সক্রিয় ব্যবহারকারী ১০ কোটির বেশি। একইভাবে Anthropic জানিয়েছে, তাদের Claude প্ল্যাটফর্মের মোট ব্যবহারের ৫.৮ শতাংশ আসে ভারত থেকে—যা যুক্তরাষ্ট্রের পরেই দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। এ ছাড়া Google-ও এ বাজারে সক্রিয়।
সারভমের নতুন ‘ইন্ডাস’ অ্যাপটি তাদের ১০৫ বিলিয়ন প্যারামিটারসমৃদ্ধ বৃহৎ ভাষা মডেল ‘Sarvam 105B’-এর ওপর ভিত্তি করে তৈরি। সম্প্রতি নয়াদিল্লিতে আয়োজিত ‘ইন্ডিয়া এআই ইমপ্যাক্ট সামিট’-এ প্রতিষ্ঠানটি ১০৫বি ও ৩০বি—দুটি মডেল উন্মোচন করে। একই সঙ্গে এন্টারপ্রাইজ খাত ও হার্ডওয়্যার সহযোগিতার পরিকল্পনাও জানায়। সংস্থাটি HMD–এর সঙ্গে অংশীদারত্বের মাধ্যমে নোকিয়া ফিচার ফোনে এআই সুবিধা আনার এবং Bosch–এর সঙ্গে অটোমোটিভ খাতে এআই সমাধান নিয়ে কাজের ঘোষণা দিয়েছে।
বর্তমানে ইন্ডাস অ্যাপটি বিটা সংস্করণে iOS, অ্যান্ড্রয়েড ও ওয়েবে পাওয়া যাচ্ছে। ব্যবহারকারীরা লিখিত বা কথ্য প্রশ্ন করতে পারেন এবং টেক্সট ও অডিও—দুই ধরনের উত্তর পেতে পারেন। ফোন নম্বর বা গুগল, মাইক্রোসফট ও অ্যাপল আইডির মাধ্যমে লগইন করা যাচ্ছে। তবে আপাতত সেবাটি ভারতে সীমাবদ্ধ।
অ্যাপটিতে কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। চ্যাট হিস্ট্রি মুছতে হলে পুরো অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলতে হয় এবং রিজনিং ফিচার বন্ধ করার আলাদা কোনো অপশন নেই, যা কখনো কখনো উত্তরের গতি কমিয়ে দিতে পারে। সংস্থাটি জানিয়েছে, ধাপে ধাপে কম্পিউট সক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে; ফলে প্রাথমিক পর্যায়ে অপেক্ষমাণ তালিকায় পড়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
২০২৩ সালে প্রতিষ্ঠিত সারভম এখন পর্যন্ত ৪ কোটি ১০ লাখ ডলার তহবিল সংগ্রহ করেছে। Lightspeed Venture Partners, Peak XV Partners ও Khosla Ventures–এর মতো বিনিয়োগকারীরা এতে অর্থায়ন করেছে।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্মগুলোর বিকল্প হিসেবে দেশীয় এআই অবকাঠামো গড়ে তোলার যে প্রচেষ্টা ভারত শুরু করেছে, সারভম তার অন্যতম উদাহরণ। স্থানীয় ভাষাভিত্তিক মডেল উন্নয়নের মাধ্যমে সংস্থাটি দেশের প্রযুক্তি-স্বনির্ভরতার পথে নতুন মাত্রা যোগ করতে চায়।