- ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
কম রাজস্ব আহরণ ও উচ্চ মূল্যস্ফীতিকে দেশের অর্থনীতির প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করে বিদায়ী অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ তাঁর উত্তরাধিকার নোটে নতুন অর্থমন্ত্রীর প্রতি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ তুলে ধরেছেন। কর আদায় বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং চলমান সংস্কার কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছেন তিনি।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে কয়েক পৃষ্ঠার একটি নীতিনির্দেশনা নোট রেখে গেছেন বিদায়ী উপদেষ্টা। এতে সামষ্টিক অর্থনীতির বর্তমান অবস্থা, ঝুঁকি ও নীতি-অগ্রাধিকার বিশদভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
গত বুধবার তারেক রহমান নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। একই সঙ্গে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। দায়িত্বভার গ্রহণের পর নতুন অর্থমন্ত্রীর কাছে ‘বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, ঝুঁকি এবং নীতি-অগ্রাধিকার’ শীর্ষক নোট হস্তান্তর করা হবে বলে জানা গেছে।
নোটে মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো-এর সর্বশেষ তথ্যে দেখা যায়, জানুয়ারিতে পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট ভিত্তিতে মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮.৫৮ শতাংশে, যা গত কয়েক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। টানা তিন মাস ধরে মূল্যস্ফীতি বাড়ায় বাজারে চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
অন্যদিকে প্রত্যাশিত রাজস্ব আহরণ না হওয়ায় সরকারকে দেশি-বিদেশি উৎস থেকে বেশি ঋণ নিতে হচ্ছে। বর্তমানে সরকারের মোট ঋণের পরিমাণ প্রায় ২৩ লাখ কোটি টাকা। ঋণ ও সুদ পরিশোধে বাজেটের বড় অংশ ব্যয় হওয়ায় উন্নয়ন ও সামাজিক খাতে ব্যয় সংকুচিত হচ্ছে বলে নোটে উল্লেখ করা হয়েছে।
রাজস্ব কাঠামো শক্তিশালী করতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর চলমান সংস্কার দ্রুত বাস্তবায়নের সুপারিশ করেছেন ড. সালেহউদ্দিন। ইতিমধ্যে রাজস্ব নীতি প্রণয়ন ও রাজস্ব আদায় কার্যক্রম পৃথক করতে এনবিআরকে দুই ভাগে বিভক্ত করার অধ্যাদেশ জারি হয়েছে। তবে বিভাজন এখনো পুরোপুরি কার্যকর হয়নি। এটি দ্রুত বাস্তবায়ন, কর অব্যাহতি পর্যালোচনা, আয়কর ব্যবস্থার ডিজিটালাইজেশন এবং কাস্টমস আধুনিকায়নের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
উত্তরাধিকার নোটে ব্যাংকিং খাতের সংস্কার কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে নেওয়া পদক্ষেপগুলোকে আরও শক্তিশালী করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মুদ্রানীতি, বৈদেশিক খাত ব্যবস্থাপনা এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে সমন্বিত কর্মসূচি বাস্তবায়নে ধারাবাহিকতা বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
বিদায়ী অর্থ উপদেষ্টা মনে করেন, নতুন প্রকল্প হাতে নেওয়ার আগে চলমান সংস্কার ও নীতিগত পদক্ষেপগুলো দৃঢ়ভাবে বাস্তবায়ন করাই হবে আগামী সময়ের জন্য সবচেয়ে কার্যকর কৌশল।