- ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
নতুন সরকার রমজানে নিত্যপণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখতে জোরদার পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ব্যবসায়ীদের প্রতি সতর্ক করে বলেছেন, রমজানকে মুনাফা আয়ের মাস হিসেবে ব্যবহার করা ঠিক নয়। তিনি বলেন, পবিত্র মাহে রমজানে দ্রব্যমূল্য যেন সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে না যায়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।
সরকার ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ ও জেলা প্রশাসনের সহায়তায় সারা দেশে বাজার মনিটরিং কার্যক্রম শুরু করেছে। রমজান উপলক্ষে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে বাজারে অভিযান চালিয়ে ক্রয় রসিদ প্রদর্শন ব্যর্থ বা অপরিষ্কার পরিবেশে ব্যবসা পরিচালনার দায়ে জরিমানা আরোপ করা হচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে অভিযান পরিচালনায় তিন ব্যবসায়ীকে সাত হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া হবিগঞ্জ, নীলফামারী ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় বাজার মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
সরকারের আরেকটি উদ্যোগ হচ্ছে নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি। সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন জানান, নতুন ফ্যামিলি কার্ডের আর্থিক সহায়তা বিদ্যমান কার্ডের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি হবে। বর্তমানে চলমান ভাতা ও অন্যান্য কার্ড কার্যক্রমও অব্যাহত থাকবে।
এছাড়া টিসিবি ভ্রাম্যমাণ ট্রাকের মাধ্যমে পাঁচটি নিত্যপণ্য–ভোজ্যতেল, চিনি, ছোলা, ডাল ও খেজুর–সুলভ মূল্যে বিক্রি করছে। প্রতিটি পরিবারের ক্রয় সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। দেশের ৭০ লাখ ফ্যামিলি কার্ডধারীর জন্য নিয়মিত বিক্রিও অব্যাহত রয়েছে।
প্রাণিসম্পদ, কৃষি ও খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় নিম্ন আয়ের জনগণকে প্রোটিনসমৃদ্ধ খাদ্য (দুধ, ডিম, মাংস ও মাছ) সুলভ মূল্যে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই কার্যক্রমের আওতায় দেশে ১০ লাখেরও বেশি পরিবারকে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
বাজারের পরিস্থিতি বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, খুচরায় নিত্যপণ্যের দাম গত বছরের তুলনায় সামান্য বৃদ্ধি পেয়েছে, তবে হাসিনা আমলের তুলনায় দাম অনেক কম। উদাহরণস্বরূপ, পেঁয়াজের দাম এখন ৬০ থেকে ৭০ টাকা প্রতি কেজি, যেখানে ২০২৪ সালের রমজানে একই পণ্য ৯০ থেকে ১১০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল।
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) ও এফবিসিসিআই আশা প্রকাশ করেছেন, সরকারের কঠোর নজরদারি ও পর্যাপ্ত সরবরাহ ব্যবস্থা বজায় থাকলে এবারের রমজানে নিত্যপণ্যের মূল্য স্থিতিশীল থাকবে। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, রমজানের প্রথম কয়েকদিন চাহিদা বেশি থাকলেও কয়েকদিন পর চাহিদা কমে যাওয়ায় পণ্যের দামও স্বাভাবিক পর্যায়ে আসবে।
সরকারের এই উদ্যোগে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, সুলভ খাদ্য বিতরণ ও ভোক্তাদের সুবিধা নিশ্চিত করতে কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।